খাদ্য ও পুষ্টি লাইফস্টাইল

শীতে পেশির টান থেকে বাঁচার সহজ উপায়

Advertisements

ঠাণ্ডার প্রভাবে পেশির টান খুবই স্বাভাবিক বিষয়। যেকোনো সময় পায়ে বা পিঠে পেশিতে টান লেগে যেতে পারে। দৌড়াতে গিয়ে হোক, বা ভারী কিছু তুলতে গিয়ে হোক।

আবার ঘুমের ভেতরও অনেকের পেশিতে টান লেগে যায়। এমনকি কিছু না করেও অনেক সময় ব্যথা হয় পেশির। ঘুমানোর সময় হয়তো টান লেগে গেল ঘাড়ে কিংবা গোসলের পর মাথা মোছার সময় কাঁধে।

তবে শুধু শীতেই না, গরমের সময়ও এমনটা হতে পারে। পেশির মধ্যে পানির পরিমাণ কমে গেলে, পেশি তার ফ্লেক্সিবিলিটি বা স্থিতিস্থাপকতা হারায়। সেই কারণেই প্রয়োজন মতো সংকোচন-প্রসারণ করে উঠতে পারে না।

তাই হঠাৎ প্রসারণের ফলে সেখানে আঘাত লাগে। পেশিতে প্রয়োজনীয় মিনারেল বা খনিজ পদার্থের অভাবেও এই সমস্যা হতে পারে। কারণটি থেকেই আন্দাজ করা যায়, কীভাবে পেশির টান বা ব্যাথার হাত থেকে বাঁচা সম্ভব। ঘরোয়া কিছু উপায়ে পেশির টান বা ব্যথার নিরাময় করা সম্ভব। জেনে নিন পদ্ধতিগুলো-

পানি পান করুন

পেশিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি থাকলে পেশির ব্যাথা হবে না। শরীর যদি সঠিকভাবে হাইড্রেটেড থাকে, তাহলে টান লাগলেও ব্যথার পরিমাণ খুব বেশি হয় না। তাই যখনই তৃষ্ণা পাবে অল্প করে পানি পান করুন। এতে আপনার পেশি ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়বে। আচমকা টান ধরে গেলেও, সেই ব্যথা কম সময়ের জন্য থাকবে।

কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খান

অনেকেই মনে করেন কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ ভাত বা পাস্তা খেলে শরীর ভারী হয়ে যায়। তবে এটি কিন্তু আপনার পেশির জন্য খুবই দরকারি। এই ধরণের হাই-কার্বোহাইড্রেট খাবারগুলো পেশিতে দ্রুত পুষ্টি জোগান দেয়। পেশির আঘাত সামলে ওঠার জন্য যে প্রয়োজনীয় উপাদানের দরকার হয়, তা-ও পাওয়া যায় এই কার্বোহাইড্রেট থেকেই।

লবণ, চিনিতে মজর দিন 

শুধু পানি পান করেই পেশিকে হাইড্রেট রাখা সম্ভব নয়। পেশির ফ্লেক্সিবিলিটি বা স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখার জন্য দরকার লবণও। কারণ লবণে রয়েছে ইলেকট্রোলাইটস। পেশির কোষের মধ্যে পানির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে এই ইলেকট্রোলাইটস। তাই সোডিয়ামের মতো লবণের উপস্থিতি শরীরে খুব দরকারি। তাই শরীরকে ডিহাইড্রেট রাখতে লবণ চিনির পানি খেতে পারেন। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইট শরীর এই পানীয় থেকে পেয়ে যায়।

মাল্টি ভিটামিনের উপর ভরসা রাখুন

চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে মাল্টিভিটামিনও খেতে পারেন। পেশির টানের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার অন্যতম ভালো রাস্তা মাল্টি ভিটামিন। কারণ সহজলভ্য মাল্টি ভিটামিনের মধ্যে সঠিক পরিমাণে ক্যালসিয়াম আর ম্যাগনেসিয়াম থাকে। এই দুটি যৌগই পেশির স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে সাহায্য করে।

ব্যায়াম  বা স্ট্রেচিং করুন

যারা নিয়মিত স্ট্রেচিং বা যোগাসন করেন, তাদের পেশির স্থিতিস্থাপকতা অন্যদের তুলনায় বেশি। শরীরের চাহিদাতেই তারা বেশি পরিমাণে ফ্লুইড নিতে বাধ্য হন। সব মিলিয়ে পেশির গুণগত মান তাতে ভালো হয়। তাই এই স্ট্রেচিং-এর দিকে নজর দিতে পারেন। এতে পেশির টান থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবেন।

সূত্র: বোল্ডস্কাই