Advertisements

দ্বাদশ ম্যাচে এসে বঙ্গবন্ধু বিপিএল প্রথমবারের মতো দেখল দলীয় দুইশ রান। রানের ‘ডাবল সেঞ্চুরি’র দ্বিতীয়টি দেখতে দুই ঘণ্টাও অপেক্ষা করতে হলো না! চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ও ঢাকা প্লাটুন করল রান উৎসব। যেখানে শেষ হাসি হাসল চট্টগ্রাম। স্বাগতিক দল পেয়েছে ১৬ রানের জয়।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বুধবার আগে ব্যাটিংয়ে নেমে মাহমুদউল্লাহ ও লেন্ডল সিমন্সের ঝোড়ো ফিফটিতে ৪ উইকেটে ২২১ রান করেছিল চট্টগ্রাম। এবারের বিপিএলে সর্বোচ্চ দলীয় রান এটিই, আর বিপিএল ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটাও হয়েছিল এই মাঠেই। গত বিপিএলে রাইলি রুশো ও অ্যালেক্স হেলসের সেঞ্চুরিতে রংপুর রাইডার্স ৪ উইকেটে করেছিল ২৩৯ রান।

বিপিএলে দুইশর বেশি রান তাড়া করে জেতেনি কোনো দল। ঢাকাকে গড়তে হতো তাই রেকর্ড। তবে শেষ বলে অলআউট হওয়ার আগে ঢাকা করতে পারে ২০৫ রান।

ম্যাচে মোট রান হয়েছে ৪২৬। বিপিএলের ইতিহাসে কোনো ম্যাচে দুই ইনিংস মিলে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড এটিই। পেছনে পড়েছে ২০১৩ সালের আসরে এই চট্টগ্রামেই দুরন্ত রাজশাহী ও বরিশাল বার্নার্স ম্যাচের ৪২২ রান। সেদিন রাজশাহীর ২১৩ রানের জবাবে বরিশাল করেছিল ২০৯।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সিমন্স ও আভিস্কা ফার্নান্দোর ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পেয়েছিল চট্টগ্রাম। পঞ্চম ওভারে ফার্নান্দোর (১৩ বলে ২৬) বিদায়ে ভাঙে ৫১ রানের উদ্বোধনী জুটি।

সিমন্স এরপরও চালিয়ে গেছেন। ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান মাত্র ২৪ বলে তুলে নেন ফিফটি। রান আউটে শেষ হয় তার ৫৭ রানের ইনিংস। ৩৬ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান সিমন্স।

এরপরই উইকেটে আসা মাহমুদউল্লাহ দ্বাদশ ওভারে মুখোমুখি প্রথম বলেই মেহেদী হাসানকে হাঁকান ছক্কা। তবে ওভারের শেষ বলে ইমরুল কায়েসের সঙ্গে দুই রান নিতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগে তার।

গত মাসে কলকাতা টেস্টে ব্যাটিংয়ের সময় এই হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়েই মাঠ ছেড়েছিলেন। সেই চোটে বিপিএলে চট্টগ্রামের প্রথম দুই ম্যাচে তিনি খেলতে পারেননি। আজ চোটটা ফিরে এসেছে আবার।

তবে এদিন মাঠ ছাড়তে হয়নি। বরং খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়েই তোলেন ঝড়। পরের ওভারেই মাশরাফি বিন মুর্তজাকে পরপর হাঁকান ছক্কা-চার। ছক্কায় উড়ান শহীদ আফ্রিদি, সালাউদ্দিন শাকিলকেও।

থিসারা পেরেরাকে চার হাঁকিয়ে মাহমুদউল্লাহ ফিফটি তুলে নেন ২৪ বলে। এরপর অবশ্য ইনিংস আর টেনে নিতে পারেননি খুব বেশি। হাসান মাহমুদের ফুলটস বল ছক্কায় উড়াতে গিয়ে ক্যাচ দেন মুমিনুল হককে। ২৮ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় চট্টগ্রাম অধিনায়ক করেন ৫৯।

এরপর চাঁদউইক ওয়ালটনের ১৮ বলে অপরাজিত ২৭ রানের ক্যামিওতে রানের পাহাড়ে ওঠে চট্টগ্রাম। ঢাকার হয়ে হাসান মাহমুদ ২ উইকেট পেলেও চার ওভারে খরচ করেন ৫৫ রান। এর মধ্যে দুটি নো বলসহ শেষ ওভারেই দেন ২০ রান!

বড় লক্ষ্য তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারেই এনামুল হক বিজয়কে হারিয়ে ধাক্কা খায় ঢাকা। কুঁচকির চোট ও ভাইরাল জ্বর নিয়ে ছিটকে যাওয়া তামিম ইকবালের জায়গায় আসরে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছিলেন মুমিনুল।

সেই মুমিনুল প্রথমবার খেলতে নেমেই তুলে নেন ফিফটি। পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ৩৫ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় করেন ৫২ রান। মাঝে জাকের আলী অনিক ১৯ বলে দুটি করে চার ও ছক্কায় করেন ২৭। লরি এভান্স, শহীদ আফ্রিদি ভালো করতে পারেননি।

শেষ পাঁচ ওভারে ঢাকার দরকার ছিল ৭২ রান। ষোড়শ ওভারে ঝড় তোলেন অধিনায়ক মাশরাফি। নাসির হোসেনের প্রথম তিন বলেই হাঁকান ছক্কা। পরের বলে চার। তাতে হঠাৎ যেন প্রাণ ফেরে ম্যাচে। উঁকি দেয় নাটকীয় কিছুর সম্ভাবনাও।

ছক্কা হতে পারত নাসিরের পঞ্চম বলেও। ডিপ মিডউইকেট দিয়ে উড়িয়েছিলেন মাশরাফি। বাউন্ডারিতে দুইবারের চেষ্টায় ক্যাচ নেন ইমরুল। শেষ হয় মাশরাফির ৬ বলে ২৩ রানের ছোট্ট ঝোড়ো ইনিংস।

১ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ দুই ওভারে ঢাকার দরকার ছিল ৩৪ রান। ১৯তম ওভারে কেশরিক উইলিয়ামসের প্রথম দুই বলে পেরেরা হাঁকান দুই ছক্কা। পরের চার বলে অবশ্য ১ রানের বেশি আসেনি।

শেষ ওভারে ২১ রানের প্রয়োজনে ৪ রানের বেশি নিতে পারেননি থিসারা। শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ২৭ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় তিনি করেন ৪৭ রান।

ঘরের মাঠে দুই ম্যাচই জিতল চট্টগ্রাম। সব মিলিয়ে পঞ্চম ম্যাচে চতুর্থ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে তারা। ঢাকা চতুর্থ ম্যাচে দ্বিতীয় হারের স্বাদ পেল।

By Abraham

Translate »