Advertisements

ইমরুল কায়েস ও চ্যাডউইক ওয়ালটন শুরুতে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে এনে দিয়েছেন বিপিএলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ, ২৩৮ রান। এত বড় লক্ষ্য টপকে জয়ের স্বপ্ন, কষ্টসাধ্যই। কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের গোড়াতে আঘাত করে মেহেদী রানা সেটা আরও দূরের করে দেন। পাওয়ার প্লেতে এ পেসারের ঝড়তোলা স্পেলে টপঅর্ডার উধাও। ডেভিড মালানের পাল্টা আক্রমণে এরপরও ২২২ পর্যন্ত গেছে কুমিল্লা। ম্যাচটা হেরেছে ১৬ রানে।

নিজ শহর, চেনা দর্শক, আর উর্বর উইকেট, রানের নেশায় যেন পেয়ে বসেছে চট্টগ্রামকে। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আগের ম্যাচেই ঢাকা প্লাটুনের বিপক্ষে ২২১ তুলেছিল তারা। সেই ম্যাচে ঝড় তোলা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ চোটে শুক্রবার ছিলেন না। তবে ফর্মে থাকা ইমরুল ও ওয়ালটনের ঝড় চলল। মাত্র ১ রানের জন্য বিপিএলের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটা ছোঁয়া হয়নি।

জহুর আহমেদেই গত আসরে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে বিপিএল সর্বোচ্চ ২৩৯ রান তুলেছিল রংপুর রাইডার্স। একই আসরে ২৩৭ করেছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স কুমিল্লাকে টপকাতে পেরেছে। অল্পের জন্য আটকে গেছে রংপুরের আগে। তবে হয়েছে চলতি আসরের সর্বোচ্চ সংগ্রহের রেকর্ড। রেকর্ডে আরও নতুন সংযোজন এসেছে।

বিপিএলের ইতিহাসে এই নিয়ে পাঁচবার কোনো ম্যাচে দুই ইনিংস মিলে রান চারশ ছুঁয়েছে। হয়েছে সর্বোচ্চের রেকর্ড। ২০১৩ আসরে এই চট্টগ্রামেই দুরন্ত রাজশাহী ও বরিশাল বার্নাস ম্যাচে হয়েছিল সর্বোচ্চ ৪২২ রান। রাজশাহীর ২১৩ রানের জবাবে বরিশাল করেছিল ২০৯। চট্টগ্রামের আগের ম্যাচে সেই রেকর্ড ভেঙেছিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম ম্যাচে দুই দলের ইনিংস মিলে রান উঠেছিল ৪২৬। সেটা টিকল দুদিন। চট্টগ্রাম-কুমিল্লা ম্যাচে উঠল ৪৬০ রান।

আরও রেকর্ড হাতছানি দিচ্ছে, ২০১৭ সালে টানা দুইবার দুইশো করেছিল ঢাকা ডায়নামাইটস। চট্টগ্রাম ছুঁয়েছে সেই রেকর্ড। শনিবার রংপুরের বিপক্ষে আরেকটি দ্বিশতক ইনিংস গড়তে পারলে অনন্য এক রেকর্ডই হবে চট্টগ্রামের। সেটি হবে বিপিএলের ২২তম দ্বিশতকের ইনিংস।

চট্টগ্রাম যে এমন এক ইনিংস গড়বে শুরুতে তা খানিকটা ধোঁয়াটেই ছিল। মেরে খেলতে গিয়ে মুজিব-উর রহমানের বলে স্টাম্প হারান লেন্ডল সিমন্স, দলের রান তখন সবে ২১, আর সিমন্সের ১০।

শুরুর ধাক্কা পরে মাথাতেই আনতে দেননি লঙ্কান আভিষ্কা ফার্নান্দো ও মাহমুদউল্লাহর জায়গায় অধিনায়কত্ব পাওয়া ইমরুল কায়েস। দুজনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১০ ওভার শেষে শতক পেরোয় চট্টগ্রাম।

একাদশ ওভারে আভিষ্কাকে ফিরিয়ে ৮৩ রানের জুটি ভাঙেন সৌম্য সরকার। ৩টি করে চার-ছক্কা হাঁকানো লঙ্কান ব্যাটসম্যান মাত্র দুই রানের জন্য দেখা পাননি ফিফটির।

আভিষ্কা না পারলেও ইমরুল ঠিকই তুলেছেন ৩৫ বলে আসরে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি। নাসির হোসেনকে একপাশে রেখে ৩৪ রানের জুটিতে একাই তুলেছেন ৩১। ৪১ বলে ৬২ করার পর ইমরুলকে থামান দাশুন শানাকা। ইনিংস ৯ চারের, একটাই ছক্কা মেরেছেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক।

কিছুক্ষণ বাদে নাসির হোসেন মাত্র ৩ করে ফিরে গেলে শঙ্কা জেগেছিল ধাক্কার। কিন্তু ইমরুল-নাসিরের উইকেট হারানোটা যেন শাপে-বর হয়েছে! জোড়া উইকেটের সঙ্গে মিডলঅর্ডারে মাহমুদউল্লাহর অনুপস্থিতি একদমই বুঝতে দেননি ওয়ালটন। তোলেন চার-ছক্কার ঝড়। অপর পাশে দারুণ সঙ্গ দেন নুরুল হাসান সোহান। দুজনে শেষ পাঁচ ওভারে তুলেছেন ৯২ রান।

শেষ তিন ওভারে সবচেয়ে বেশি রান তুলেছেন ওয়ালটন ও সোহান। শানাকার করা ১৮তম ওভারে ১৮, সৌম্যর করা ১৯তম ওভারে ২৮ ও আবু হায়দার রনির করা ইনিংসের শেষ ওভারে ২৫ রান উঠতেই রানের পাহাড় জমিয়ে ফেলে চট্টগ্রাম।

২২ বলে ফিফটি পাওয়া ওয়ালটন ইনিংস শেষে অপরাজিত থাকেন ২৭ বলে ৭১ করে। চারের চেয়ে ছক্কার মারই ছিল বেশি, ৬টি ওভার বাউন্ডারির বিপরীতে চারের মার ৫টি। ১৫ বলে ২৯ করেছেন সোহান। ২টি করে চার-ছক্কার মার তাতে।

২৩৯ রানের পাহাড়সম রানতাড়ায় শুরুতেই কুমিল্লাকে খোড়া করে দেন ঢাকা ম্যাচের সেরা মেহেদী হাসান রানা। ভানুকা রাজাপাক্সেকে বোল্ড, সৌম্যকে ইমরুলের ক্যাচ ও সাব্বির রহমানকে এলডব্লিউর ফাঁদে ফেলে মেহেদী যখন প্রথম স্পেল শেষ করেন, তখন নামের পাশে ২ ওভারে ১ মেডেনের সঙ্গে মাত্র এক রান দিয়ে ৩ উইকেট। রানের চেয়ে উইকেট সংখ্যাই বেশি।

নড়বড়ে এক শুরুর পরও কুমিল্লার আশা হয়ে ছিলেন ডেভিড মালান। মারমুখী এক ইনিংসে ইংলিশ ব্যাটসম্যান একাই হুমকি দিচ্ছিলেন চট্টগ্রামকে। মাত্র ৩৮ বলে ৮৪ করা মালানের ইনিংস থামিয়ে চট্টগ্রামের ত্রাতা আরও একবার মেহেদী রানা।

পরে মেহেদীই আবার ডোবাতে বসেছিলেন দলকে। নিজের শেষ ওভারে ২২ রান দিয়ে হারের মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন। ৪ ওভার শেষে ২৮ রানে ৪ উইকেট নেয়া পেসারের ওই ওভারটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

মেহেদীর শেষ ওভারে ২২ রান নিয়ে খেলা জমিয়ে তোলেন আবু হায়দার রনি। জিততে হলে শেষ ওভারে ২৫ দরকার ছিল কুমিল্লার। কিন্তু নাসুম আহমেদের করা সেই ওভারে মাত্র ৮ রান ওঠায় ১৬ রানের খেদ নিয়ে ম্যাচ শেষ হয় কুমিল্লাকে।

By Abraham

Translate »