Advertisements

আবারো রবার্তো ফিরমিনোর হাত ধরে দারুন এক জয় ছিনিয়ে আনলো লিভারপুল। অতিরিক্ত সময়ে ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডের গোলে লিভারপুল ১-০ গোলে ফা¬মেঙ্গোকো পরাজিত করে প্রথমবারের মত ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে।
দোহার খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়ে গোল শুণ্য ড্র থাকায় ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ে অর্থাৎ ৯৯ মিনিটে সাদিও মানের সহযোগিতায় ফ্লামেঙ্গো গোলরক্ষক দিয়েগো আলভেসের লো শটে পরাস্ত করে ফিরমিনো দলের জয় নিশ্চিত করেন। নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ দিকে লিভারপুলের একটি পেনাল্টির আবেদন ভিএআর প্রযুক্তির সহায়তায় বাতিল করা হয়। মানেকে ফাউলের অপরাধে রাফিনহার বিপক্ষে কাতারি রেফারি আল জসিম প্রথমে স্পট কিকের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু লম্বা সময় ধরে রিভিউ দেখার পর পরবর্তীতে তা বাতিল করা হয়। সেমিফাইনালে মেক্সিকান ক্লাব মন্টেরির বিপক্ষে লিভারপুরের ২-১ গোলের জয়ে ইনজুরি টাইমেও জয়সূচক গোলটি করেছিলেন ফিরমিনো।
ম্যাচ শেষে এই ব্রাজিলিয়ান তারকা বলেছেন, ‘এটা সত্যিই দারুন এক অনুভূতি। আরেকটি শিরোপা জয় এবং তা যদি হয় বিশ্ব শিরোপা তবে সকলের জন্য তা বিশেষ কিছু। এটা মূলত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সাফল্যের ধারাবাহিকতা। আমরা এখানে জিততে এসেছিলাম। যদিও কাজটি সহজ ছিলনা।’
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও উয়েফা সুপারকাপের পর এ বছর তৃতীয় শিরোপার দেখা পেল লিভারপুল। ক্লাব বিশ্বকাপের এই শিরোপার পর ক্লপের অধীনে লিভারপুল যদি এবার প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিততে পারে তবে ক্লাবের দীর্ঘ ইতিহাসে এই দলটি চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
১৯৮১ সালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের ফাইনালে লিভারপুলকে হারিয়ে শিরেপা জিতেছিল ফা¬মেঙ্গো। ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটি সেই স্মৃতিরই পুনরাবৃত্তি ঘটাতে মাঠে নেমেছিল। ২০১২ সালে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব করিন্থিয়ান্স ইংলিশ চেলসিকে হারিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের পর প্রথম ইউরোপের বাইরের কোন দল হিসেবে ফ্লামেঙ্গোর সামনেও সেই সুযোগ এসেছিল। ম্যাচের শুরু থেকে ফ্লামেঙ্গো দারুন প্রতিরোধও গড়ে তুলে।
অসুস্থতার কারনে সেমিফাইনালে খেলতে না পারা ডাচ তারকা ভার্জিল ফন ডাইককে কাল স্বাগত জানিয়েছিলেন ক্লপ। আর সে কারনে অধিনায়ক জর্ডান হেন্ডারসন মধ্যমাঠে তার পুরনো জায়গা ফেরত পেয়েছিলেন। মন্টেরির বিপক্ষে মূল একাদশের বাইরে থাকা ফিরমিনো, মানে ও ট্রেন্ট আলেক্সান্দার-আর্নল্ড আবারো দলে ফিরেছিলেন। প্রথম ছয় মিনিটে ফিরমিনো, নেবি কেইটা ও আলেক্সান্দার-আর্নল্ড গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন। এরপর অবশ্য ফ্লেমেঙ্গো ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে। প্রথমার্ধে দারুন ফর্মে থাকা ব্রুনো হেনরিক গোলরক্ষক আলভেসের কাছ থেকে লং পাস পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। প্রথমার্ধের প্রায় বেশীরভাগ সময়ই তারা ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নদের সাথে সমান তালে লড়াই করে খেলেছে। তবে হেন্ডারসনের পাস থেকে ফিরমিনোর গোল করতে না পারাটা ফ্লামেঙ্গোর জন্য সৌভাগ্যই ছিল। অন্যদিকে ফ্লামেঙ্গোর স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল বারবোসার শট দারুনভাবে আটকে দিয়ে লিভারপুলকে রক্ষা করেন রেডস গোলরক্ষক এলিসন।
সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ী দল :
২০১৯ : লিভারপুল (ইংল্যান্ড)
২০১৮ : রিয়াল মাদ্রিদ (স্পেন)
২০১৭ : রিয়াল মাদ্রিদ (স্পেন)
২০১৬ : রিয়াল মাদ্রিদ (স্পেন)
২০১৫ : বার্সেলোনা (স্পেন)
২০১৪ : রিয়াল মাদ্রিদ (স্পেন)
২০১৩ : বায়ার্ন মিউনিখ (জার্মানী)
২০১২ : করিন্থিয়ান্স (ব্রাজিল)
২০১১ : বার্সেলোনা (স্পেন)
২০১০ : ইন্টার মিলান (ইতালি)

By Abraham

Translate »