Advertisements

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরসহ অন্য ছাত্রদের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন বলে মনে করছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থাকতে কি করে এই হিংস্র হামলা হয়, সেই প্রশ্ন তুলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদত্যাগ চেয়েছেন জোনায়েদ সাকি।

তিনি বলেছেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ভবনের কক্ষে এ রকম নৃশংস হামলা হয় কীভাবে? এটি আমাদের বোধগম্য নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আছে নাকি নেই? আমাদের তো মনে হচ্ছে– নেই।’

প্রশাসন নিজেই হামলার মদদদাতা বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন সাকি।

আজ সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আহত নুরকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন জোনায়েদ সাকি।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘ঢাবি প্রশাসনের যদি কোনো প্রশাসনিক চরিত্র থাকত, তা হলে এভাবে ছাত্রদের ওপর কোনো একটি পক্ষ লাইট অফ করে হামলা করত না।’

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘ভিপি নুর সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাঙ্গন, সারা দেশ ও ভারতসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। গত কয়েক দিন ধরে আমরা দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ভিপি নুরের এসব বক্তব্যের ওপর নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত একজন ভিপি কী বক্তব্য দেবেন- এটি প্রক্টর নির্ধারণ করবেন না। একজন ভিপি শিক্ষাঙ্গন, সারা দেশ– এমনকি সারাবিশ্ব নিয়ে কথা বলতে পারবে। এটি তার স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। প্রক্টর ভিপির বক্তব্যের ওপর যে মন্তব্যগুলো করেছেন, তাতে মনে হচ্ছে– এই হামলায় তার সমর্থন আছে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাজ। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। তাদের বর্তমান ভূমিকা দেখে মনে হচ্ছে, তারাও এই হামলাগুলোর সঙ্গে জড়িত। তারাই এসব করাচ্ছেন কিনা, এটি আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদত্যাগ চাই।’

উল্লেখ্য, রোববার বেলা ১টার দিকে ডাকসু ভবনে গিয়ে ভিপির কক্ষ এবং ডাকসু ভবনে তাণ্ডব চালায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের লোকজন। এ সময় নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন ডাকসু ভিপি।

তাণ্ডবের ঘটনাটির কয়েকটি ভিডিও ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

যেখানে দেখা গেছে, হামলা-ভাঙচুরে ভিপি নুরসহ আটজন আহত হয়েছেন। হামলার পর আহত ডাকসু ভিপি নুরুল হক অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুক হোসেনসহ অন্যদের সাহায্য চেয়ে আকুতি জানাতে দেখা গেছে।

ভিডিওতে বাংলাদেশে সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতা রাশেদ খানকে বলতে শোনা গেছে, ‘শাহবাগ থানা পুলিশের সাহায্য কামনা করছি। এখানে আমাদের সবার অবস্থা খারাপ।’

ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন বলেছিলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। অনেকে আহত হয়েছেন। ভিপি নুর এখনও অবরুদ্ধ।’

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা এ হামলায় অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভিপি নুর।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডাকসু ভবনের মূল ফটক বন্ধ করে নুরের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করা হয়। এ ছাড়া বাইরে থেকেও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল ছোড়েন। হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হন।

By Abraham

Translate »