Advertisements

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নব-নির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ‘ডাকসু’র হামলার ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য,অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি মনে করেন,বহিরাগতদের ডাকসু ভবনে নিয়ে যাওয়াতেই এ ঘটনা ঘটেছে।
ড. হাছান প্রশ্নেরচ্ছলে বলেন,‘ভিপি নূর ডাকসু ভবনে বহিরাগতদের নিয়ে কেন হাজির হয়েছিলেন এবং এ ধরণের ঘটনা ঘটানোর জন্য কোনো ইন্ধন ছিল কি-না,  তা দেখতে হবে ?’
তথ্যমন্ত্রী আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়স্থ নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে ‘ডাকসু ভবনে’ রোববারের অনাকাঙ্গিত ঘটনায় ভিপি নূরসহ কয়েকজনের আহত হওয়া সম্পর্কিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা: মুরাদ হাসান ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন,‘আমরা কখনোই এ ধরণের হামলাকে সমর্থন করি না। হামলার পরপরই আমাদের দলের দ’ুজন নেতা সেখানে গিয়েছিলেন। এছাড়াও দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দল এবং সরকারের পক্ষ থেকে আজ সোমবার এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনিও (কাদের) বলেছেন, আমরা এ ধরণের ঘটনাকে কখনোই সমর্থন করি না।’
তথ্যমন্ত্রী এ সময় কয়েকটি প্রশ্নের উদ্রেক করে বলেন, ‘ডাকসু’র ভিপি নূর কেন বহিরাগতদের নিয়ে ডাকসু ভবনে গেলেন? এতজন বহিরাগতদের নিয়ে সেখানে যাওয়ার কি প্রয়োজনীয়তা ছিল ? সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,‘আপনারা দেখেছেন সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য নানাধরণের ষড়যন্ত্র হয়েছে, হচ্ছে এবং আছে। রাজনৈতিকভাবে সরকারকে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং যারা দেশের পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চায়, তারা নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ ধরণের ঘটনা ঘটানো হয়েছে কি না এবং এ ঘটনার ক্ষেত্রে কোনো উস্কানি ছিল কি না, তা-ও দেখতে হবে। কারণ অতীতেও আমরা দেখেছি ডাকসু’র ভিপি নূর এ ধরণের ঘটনার মাধ্যমে আলোচনায় থাকতে চান।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন,‘ভারতের বিষয় নিয়ে আন্দোলন করার চেষ্টা এবং বহিরাগতদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হওয়া এগুলো ঘটনা ঘটানোর জন্য ইন্ধন কি-না তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে। তবে যাই হোক, যে ঘটনা ঘটেছে, তা কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। অবশ্যই এর তদন্ত হবে।’
এ সময় ড. হাছান দৃঢ়তার সাথে বলেন,‘ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন,শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও সেই আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা আমি রক্ষা করবো।’
দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হাছান বলেন,‘প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা আমাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এর আগে তিনি আমাকে পরিবেশ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সেটি আমি নিষ্ঠার সাথে ১০ বছর পালন করেছি। তিনি আমাকে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছিলেন সেটিও আমি ৭ বছর নিষ্ঠার সাথে পালন করার চেষ্টা করেছি।’
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি মাইলফলক। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। টানা প্রায় ১১ বছর পর-পর ৩ বার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণের ম্যানডেট নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে।
তিনি বলেন,‘সেকারণেই আমাদের দলের মধ্যে অনেক সুযোগ সন্ধানী অনুপ্রবেশ করেছে, অনেক স্বার্থান্বেষীমহলের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এবার জাতীয় কাউন্সিলকে ঘিরে সারাদেশে জেলা এবং উপজেলায় যে কাউন্সিল হয়েছে সেখানে দলের মধ্যে যারা সুযোগ সন্ধানী,যারা একসময় দলের বিরুদ্ধে কাজ করেছে,তাদেরকে অবশ্যই নেতৃত্বে আনা যাবে না। সেই মোতাবেক জেলা ও উপজেলায় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ড. হাছান বলেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে একটি ঘোষণাপত্র থাকে,জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য থাকে একটি দিক-নির্দেশনা।
‘রাজনীতি হচ্ছে একটি ব্রত’ এ কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পর রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন ঘটানো হয়েছে। জিয়াউর রহমান রাজনীতিতে রাজনীতিবিদদের বেচাকেনার হাট বসিয়েছিলেন। এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন এবং বণিকায়ন ঘটানো হয়। সেই ধারাবাহিকতা এরশাদ সাহেব আরো বেগবান করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া সেটিকে ষোলকলায় পূর্ণ করেছেন।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন,‘আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠন করা, পাশাপাশি উন্নত জাতিও গঠন করা। এবং একইসাথে রাজনীতিতে যে দুর্বৃত্তায়ন ঘটানো হয়েছে, রাজনীতিকে যে কলুষিত করা হয়েছে, সেটিকে কলুষমুক্ত করা। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাজ করছে।
তিনি বলেন,আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে শুধু নয়, জাতির পথ প্রদর্শক হিসেবে সবসময় কাজ করে চলেছে। যারা রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন ঘটিয়েছে,রাজনীতিতে কেনাবেচার হাট বসিয়েছে, আওয়ামী লীগের সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় কাউন্সিল থেকে তাদের অনেক কিছু শেখার আছে।

By Abraham

Translate »