খাদ্য ও পুষ্টি লাইফস্টাইল

শীতে দাড়ি রাখার উপকারিতা আগে জানতেন কি?

Advertisements

পুরুষের মুখে দাড়ি রাখার রয়েছে একাধিক উপকার। এমনই মত একদল বিজ্ঞানীর। একাধিক গবেষণার পর প্রমাণিত হয়েছে, পুরুষের মুখে দাড়ি রাখার রয়েছে একাধিক উপকার।

বিশেষ করে আলট্রাভায়োলেট রশ্মির ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করে। ফলে যেকোনো ধরনের ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে। জেনে নিন দাড়ি রাখার উপকারগুলো-

গুরুত্বপূর্ণ সময় বেঁচে যায়
সত্তরের দশকে করা এক স্টাডিতে দেখা গেছে, প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষেরা তাদের সারা জীবনে গড়ে ৩ হাজার ৩৫০ ঘণ্টা সময় দাড়ি কাটার পিছনে ব্যয় করেন। যার অর্থ সারা জীবনে আমরা প্রায় ১৩৯ দিন এভাবেই নষ্ট করে ফেলি। তবে যদি দাড়ি রাখা শুরু করা যায়, তাহলে এই দিনগুলোতে আমরা করতে পারি কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তাই ভেবে দেখুন, দাড়ি রাখবেন না ১৩৯ দিন নষ্ট করবেন!

গলার কোনো ধরণের রোগ হয় না
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, দাড়ি লাগলে পরিবেশে উপস্থিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ারা মুখ হয়ে শরীরের ভেতরে পৌঁছাতে পারে না। ফলে লার কোনো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি আরো নানাবিধ রোগও ধারে কাছে ঘেষতে পারে না।

ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা করে 
তাপমাত্রা যখন কমতে থাকে, তখন শরীরকে গরম রাখতে দাড়ি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। একাধিক স্টাডি করে বিজ্ঞানীদের প্রমাণ করেছেন, শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে দাড়ি বাস্তবিকই সাহায্য করে। তাই খেয়াল করে দেখবেন ক্লিন শেভ থাকেন যারা তাদের তুলনায় দাড়ি আছে এমন লোকেরা ঠাণ্ডায় কম রোগে ভুগে থাকেন।

স্কিন ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে 
সম্প্রতি প্রকাশিত বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দাড়ি থাকলে আলট্রাভায়োলেট রশ্মি ত্বকের সেভাবে ক্ষতি করতে পারে না। যতটা ক্লিন শেভ থাকলে করে থাকে। আর একথার নিশ্চয় সবাই জানেন যে ‘ইউ ভি’ রশ্মির সংস্পর্শ থেকে ত্বক যত দূরে থাকবে। তত ত্বকের ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।

ত্বক ময়েশ্চারাইজ থাকে 
স্কিন স্পেশালিস্টরা লক্ষ্য করে দেখেছেন, দাড়ি থাকলে ত্বকের আর্দ্রতা সহজে হারায় না। কারণ এক্ষেত্রে দাড়ি অনেকটা রক্ষাকবচের কাজ করে থাকে। ফলে সহজে স্কিন ড্রাই হয়ে যায় না। তাই তো যারা সারা বছরই কম-বেশি ড্রাই স্কিনের সমস্যায় ভুগে থাকেন, তারা দাড়ি রাখার কথা ভাবতেই পারেন।

অ্যালার্জির প্রকোপ কমে
আপনি কি প্রায়শই ডাস্ট অ্যালার্জিতে ভুগে থাকেন? তাহলে দাড়ি রাখার কথা ভাবতেই পারেন। কারণ পরিবেশ উপস্থিত ডাস্ট পার্টিকালসগুলো যাতে নাকের মাধ্যমে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখে দাড়ি। আসলে দাড়ি হল একটা প্রতিরোধ ব্য়বস্থা, যাকে ভেদ করে ধুলো-বালির পক্ষে শরীরে প্রবেশ করা সম্ভব হয় না। এখানেই শেষ নয়, বিজ্ঞানীরা লক্ষ করে দেখেছেন অ্যাস্থেমার মতো রোগের প্রকোপ কমাতেও গোঁফ এবং দাড়ি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

সংক্রমণের আশঙ্কা কমে   
সাধারণত রেজার দিয়ে দাড়ি কাটতে গিয়ে কেটে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে সমস্যাটা হল এই ক্ষত থেকে মারাত্মক সংক্রমণ হতে পারে। আবার অনেক সময় তা থেকে মৃত্যু পর্যন্তও ঘটে থাকে। সেক্ষেত্রে দাড়ি না কেটে রেখে দেয়াটাই শ্রেয়।

বয়স কম লাগে
অনেকেই মনে করেন দাড়ি রাখলে বয়স বেশি লাগে। এই ধরণা কিন্তু একেবারে ঠিক না। বরং ঘটনা একেবারে উল্টো! আলট্রাভায়োলেট রশ্মির আঘাত কম লাগার কারণে যাদের দাড়ি রয়েছে, তাদের ত্বকের ক্ষয় কম হয়। ফলে কম বয়সীদের মতো দেখতে লাগে। তাই বেশি দিন পর্যন্ত যদি ত্বকের বয়স ধরে রাখতে চান, তাহলে দাড়ি রাখাতে হবে অবশ্যই!

সূত্র: বোল্ডস্কাই