Advertisements

মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) শীর্ষ এক নেতাকে অপহরণের পর হত্যা করেছে রাখাইনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। কয়েকদিন আগে রাখাইনের বুথিডং শাখার চেয়ারম্যান ইয়ে থেইনকে অপহরণ করেছিল বিদ্রোহীরা।

বৃহস্পতিবার দেশটির সরকারি এক কর্মকর্তা জানান, ওই অঞ্চলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ওই নেতাকে অপহরণের পর হত্যা করেছে। আর বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত সোমবার এক বিস্ফোরণে মারা গেছেন ইয়ে থেইন।

নেদারল্যান্ডসের রাজধানী দ্য হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় মিয়ানমারের পক্ষে লড়ায় রাখাইনে সু চির সমর্থনে সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিলেন ওই নেতা।

রাখাইনের অধিকতর স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াইরত জাতিগত রাখাইন বৌদ্ধ বিদ্রোহীদের সংগঠন আরাকান আর্মি প্রায় এক সপ্তাহ আগে এনএলডির এই নেতাকে অপহরণ করে।

আরাকান আর্মির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এনএলডির নেতা থেইন গত সোমবার নিহত হয়েছেন। বড় ধরনের বিস্ফোরণের কারণে কিছু বন্দি মারা গেছেন এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। এনএলডির বুথিডং শাখার চেয়ারম্যানও ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন।

এনএলডির মুখপাত্র মিও নিন্ট বলেছেন, আমরা এনএলডির সদস্যরা তাকে হারিয়ে অত্যন্ত শোকাহত। সু চির সমর্থনে সমাবেশের পরিকল্পনা করাটা সঠিক ছিল এবং এটা কোনো ধরনের অপরাধ নয়।

সম্প্রতি রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও স্থানীয়দের বিরুদ্ধে সিরিজ হামলা ও দুঃসাহসিক অপহরণ, বোমা বিস্ফোরণ ও রক্তাক্ত অভিযান পরিচালনা করেছে আরাকান আর্মি। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় এই রাজ্যে আরাকান আর্মির বিদ্রোহীদের দমনে নতুন করে অতিরিক্ত সেনা সদস্য মোতায়েন করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতন এবং গুমের অভিযোগ করেছে।

মিয়ানমারের পঞ্চিমাঞ্চলীয় এই রাজ্যে প্রায়ই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার খবর আসছে। ২০১৭ সালের আগস্টে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর রক্তাক্ত অভিযানের জেরে ৭ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

এক বছর আগে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ জোরাল হয়। তখন থেকে এখন পর্যন্ত রাখাইনে লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। বিদ্রোহীদের সশস্ত্র এই সংগঠন জাতিগত বৌদ্ধ রাখাইন সম্প্রদায়ের। তারা রাখাইনের অধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারের নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে।

সূত্র: দ্য ইরাবতি

By Abraham

Translate »