Advertisements

জাতিসংঘে বিপুল ভোটে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়েছে। রোহিঙ্গা মুসলিমসহ সংখ্যালঘু বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে এ নিন্দা প্রস্তাব পাস করা হয়।

গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এ প্রস্তাব পাস করা হয়। প্রস্তাবে জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গাসহ সব ধরনের সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো বন্ধে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

১৯৩ সদস্যের মধ্যে ১৩৪ সদস্যই প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়। প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট পড়ে ৯টি। এছাড়া ২৮ সদস্য ভোট প্রদানে বিরত থাকে।

একই অধিবেশনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের তদন্ত কমিটির তদন্ত পরিচালনার ব্যয় অনুমোদন করা হয়।

এ নিন্দা প্রস্তাব মিয়ানমারের জন্য কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করবে না। তবে এতে আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে কিছুটা হলেও চাপে পড়বে মিয়ানমার। মিয়ানমার বরাবরই রোহিঙ্গাসহ সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযান ও সহিংসতার মুখে বিভিন্ন সময়ে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা পালিয়ে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।  বিশেষ করে ২০১৭ সালের অভিযানের পর জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের চালানো তদন্তে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে।

মিয়ানমারের প্রতিক্রিয়া

এ প্রস্তাব পাস হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মাঝে নতুন করে অনাস্থা ও অবিশ্বাসের বীজ বপন করবে।

মিয়ানমারের জাতিসংঘ প্রতিনিধি হাউ দো সুয়ান বলেন, এ নিন্দা প্রস্তাব মানবাধিকার নীতির দ্বিমুখী প্রয়োগের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ। মিয়ানমারকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতেই এটি পাস করা হয়েছে।

এতে রাখাইন সমস্যার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের বিভিন্ন প্রচেষ্টাকেও স্বীকার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

By Abraham

Translate »