Advertisements

পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিং ও দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যামেরন ডেলপোর্টের ব্যাটিং নৈপুণ্যে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় জয়ের দেখা পেল রংপুর রেঞ্জার্স। আজ টুর্নামেন্টের ২৫তম ম্যাচে রংপুর রেঞ্জার্স ৭ উইকেটে হারিয়েছে সিলেট থান্ডারকে। প্রথমে ব্যাট করে মোহাম্মদ মিঠুনের হাফ-সেঞ্চুরিতে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৩ রানের মামুলি সংগ্রহ পায় সিলেট। ১০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সিলেটকে বড় স্কোর করতে দেননি রংপুরের মুস্তাফিজ। আর তিন নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে ৬২ রান করেন মিঠুন। জবাবে ডেলপোর্টের ২৮ বলে ৬৩ রানের সুবাদে ১৬ বল বাকী রেখেই জয়ের স্বাদ নেয় রংপুর।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নেয় রংপুর রেঞ্জার্স। দুই ওপেনার ওয়েস্ট ইন্ডিজের আন্দ্রে ফ্লেচার ও জনসন চার্লস দলকে ভালো শুরু এনে দিতে পারেননি। স্পিনার আরাফাত সানির বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ক্যাচ দিয়ে শুন্য রানে আউট হন এবারের আসরের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান।
ছক্কা দিয়ে ইনিংস শুরু করেছিলেন চার্লস। কিন্তু ৯ রানে চার্লস পেসার মুকিদুল ইসলামের বলে আউট হলে দলীয় ১৬ রানে দুই ওপেনারকে হারায় সিলেট।
এরপর দলের হাল ধরে বড় জুটি গড়েন মিঠুন ও অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন। দেখেশুনে খেলে জুটিতে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তারা। তবে দলীয় ৭৩ রানে মোসাদ্দেক রান আউট হলে মিঠুনের সাথে জমে উঠা জুটিটি বিচ্ছিন্ন হয়। ২৩ বলে ১৫ রান করেন মোসাদ্দেক। ৪৯ বলে ৫৭ রানের জুটি গড়েন তারা।
অধিনায়কের বিদায়ের পরপরই ৩৪ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মিঠুন। অর্ধশতকের স্বাদ নিয়ে নিজের ইনিংস বড় করছিলেন মিঠুন। কিন্তু ৬২ রানে মুস্তাফিজের বলে আরাফাত সানিকে ক্যাচ দিয়ে আউট হন মিঠুন। ৪৭ বলের ইনিংসে ৪টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন মিঠুন।
মিঠুনের পর আর কেউই বড় ইনিংস খেলতে না পারায় সংগ্রহটাও বড়সড় করতে পারেনি সিলেট। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেরফেইন রাদারফোর্ডের ৯ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৬ রানের সুবাদে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৩ রানের সম্মানজনক সংগ্রহ পায় সিলেট। ৪ ওভারে ১০ রানে ৩ উইকেট নেন মুস্তাফিজ।
জয়ের জন্য ১৩৪ রানের সহজ লক্ষ্যে খেলতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই অধিনায়ককে হারায় রংপুর। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক খেলোয়াড় ও রংপুরের অধিনায়ক শেন ওয়াটসন ১ রান করে সিলেটের পেসার এবাদত হোসেনের ইর্য়কারে বোল্ড হন।
এরপর দলের জয়ে ভিত গড়ে দেন আরেক ওপেনার মোহাম্মদ নাইম ও ডেলপোর্ট। ৬৩ বলে ৯৯ রানের জুটি গড়েন তারা। এরমধ্যে ২৮ বলে ৬৩ রান ছিলো ডেলপোর্টের। ২৪ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করা ডেলপোর্ট থেমে যান ৬৩ রানেই।
১৩তম ওভারে দলীয় ১০৪ রানে ডেলপোর্টকে আউট করেন আফগানিস্তানের পেসার নবীন উল হক। পরের ওভারে আবারো রংপুর শিবিরে আঘাত হানেন নবীন। এবার ইংল্যান্ডের লুইস গ্রেগরিকে ৪ রানে থামিয়ে দেন তিনি। ফলে ৮ রানেই ২ উইকেট হারায় রংপুর। তবে আফগানিস্তানের ও রংপুরের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবীকে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন নাইম। চতুর্থ উইকেটে ১৭ বলে অবিচ্ছিন্ন ২২ রান করেন তারা। ২টি করে চার-ছক্কায় ৫০ বলে ৩৮ রানে অপরাজিত নাইম। ১২ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় অপরাজিত ১৮ রান করেন নবী। সিলেটের নবীন ১৩ রানে ২ উইকেট নেন।
এই ম্যাচের আগে এবারের আসরে একটি জয় ছিলো সিলেট ও রংপুরের। তাই পয়েন্ট টেবিলের তলানিতেই ছিলো এই দু’দল। দ্বিতীয় জয়ের জন্য মরিয়া ছিলো সিলেট ও রংপুর। অবশেষে দ্বিতীয় জয়ের স্বাদ নিয়ে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহে রেখে ষষ্ঠস্থানে উঠলো রংপুর। সপ্তম ম্যাচে ২জয়ের সাথে ৫টি হারও রয়েছে রংপুরের। অন্যদিকে, ৮ ম্যাচে ১জয় ও ৭হারে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সপ্তম ও শেষ দল সিলেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
সিলেট থান্ডার : ১৩৩/৯, ২০ ওভার (মিঠুন ৬২, রাদারফোর্ড ১৬, মুস্তাফিজ ৩/১০)।
রংপুর রেঞ্জার্স : ১৩৪/৩, ১৭.২ ওভার (ডেলপোর্ট ৬৩, নাইম ৩৮*, নাভিন ২/১৩)।
ফল : রংপুর রেঞ্জার্স ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা :মুস্তাফিজুর রহমান(রংপুর)।

By Abraham

Translate »