Advertisements

ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার ঘটনায় পুরো বিশ্বে আলোড়ন উঠেছে। বিভিন্ন রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। প্রায় সবার কণ্ঠেই ছিল, উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান। কেউ কেউ বলছেন, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে অশান্তি, সংঘাত এমনকি যুদ্ধের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়া বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়বে। এদিকে জেনারেল সোলাইমানির স্থলে নতুন জেনারেল নিয়োগ দিয়েছে ইরান।

আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে রাশিয়া বলছে, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়বে। এর ফলে ওই অঞ্চলে নতুন করে অশান্তি শুরু হবে। কাসেম সোলাইমানি ইরানের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। সোলাইমানিকে হত্যার ঘটনায় ইরানের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে রাশিয়া। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশও এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে পরিস্থিতি অশান্ত হওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে।

রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি বলছে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল ঘানি কুদস ফোর্সের নতুন প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তিনি। সরকারের বরাতে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সোলাইমানির নেতৃত্বে কুদস ফোর্স যেভাবে ভূমিকা পালন করেছে, ইসমাইল ঘানির নেতৃত্বেও সেভাবেই চলবে কুদস ফোর্স। ইসমাইল ঘানি এর আগে কাসেম সোলাইমানির সহকারী হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেছেন, এ ঘটনার ‘মারাত্মক প্রতিশোধ’ নেওয়া হবে। ইরাকের প্রেসিডেন্ট আদেল আবদুল-মাহদি বলেছেন, মার্কিন এই হামলা ইরাকের সার্বভৌমত্বের প্রতি অনেক বড় আঘাত। এটি ইরাকের ওপর হামলা চালানোর শামিল। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপ এটি। এমনকি ওসামা বিন লাদেনকে হত্যায় পরিচালিত সামরিক অভিযানের চেয়েও এই হামলাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

রেভল্যুশনারি গার্ডের ‘কুদস ফোর্স’ কাসেম সোলাইমানির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছিল। ২১-২২ বছর ধরে বাহিনীটি গড়ে তোলেন তিনি। কুদস ফোর্স অপ্রচলিত যুদ্ধের জন্য তৈরি একটা বৃহৎ ‘স্পেশাল অপারেশন ইউনিট’। এই ফোর্সের প্রধান কর্মক্ষেত্র মূলত ইরানের বাইরে। কুদস ফোর্স ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন সোলাইমানি।

ইরাকের বাগদাদে আজ শুক্রবার মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হন কাসেম সোলাইমানি। শুক্রবার ভোরে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেনারেল সোলাইমানির গাড়িবহর লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়। পেন্টাগনের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের লোকজনকে রক্ষায় প্রেসিডেন্টের নির্দেশনায় ইরাকে সোলাইমানিকে হত্যা করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী।

 

By Abraham

Translate »