দেশ জুড়ে শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন

ঢাবি ছাত্রীকে ধর্ষণে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি বিভিন্ন সংগঠনের

Advertisements

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণে জড়িতদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। সোমবার সকাল থেকেই ঘৃণ্য ওই ঘটনার বিচারের দাবিতে উত্থাল হয়ে ওঠে রাজপথ। দাবি আদায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ধর্ষণের জড়িতদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিজামুল হক এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, শিক্ষক হিসেবে সন্তানতুল্য একজন ছাত্রীর প্রতি এহেন পৈশাচিক উন্মত্ততায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত, বেদনাক্লিষ্ট ও ক্ষুব্ধ। ধর্ষণ একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধিতে পরিনত হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শৈথিল্যতা, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা এবং কখনও কখনও সঠিক তদন্তের অভাবে অপরাধীর দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় সমাজে ধর্ষণ-ব্যাধির বিস্তার ঘটে চলছে। এখনই এসবের মূলোৎপাটনে রুখে দাঁড়াতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। দোষীদের আইনের আওতায় আনাতে ওই ছাত্রীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তারা।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) ৬২৫ শিক্ষক এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, একজন ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা অসভ্য এবং বর্বর যুগের সঙ্গেই তুলনীয়। শিক্ষক সমাজ এ ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আসলে দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন না থাকায় প্রকাশ্যে ঢাবির ছাত্রীকে ধর্ষণ করার দুঃসাহস দেখিয়েছে নরপিশাচরা। ধর্ষকদের কোনো পরিচয় থাকতে পারে না। ঢাবির বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের নেতারাও বিবৃতিতে অবিলম্বে ধর্ষকদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এদিকে রোববার রাতে ছাত্রী ধর্ষণের খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে মধ্য রাতেই বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে ছাত্রলীগ ও বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলো। সোমবার সকালে ক্যাম্পাসে কর্মসূচি শুরু করে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্রঐক্যসহ প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। নীলক্ষেত থেকে রাজু ভাস্কর্য, অপরাজেয় বাংলা, শাহবাড় এলাকায় খণ্ড খণ্ড প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করে ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বিভিন্ন সড়কে ধর্ষণবিরোধী প্রতিবাদী আলপনা আঁকা হয়েছে।

বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মহিলা পরিষদের উদ্যোগে মানববন্ধন পরবর্তী সমাবেশ বক্তারা বলেন,ধর্ষণ সামাজিক ব্যাধিতে পরিনত হয়েছে। এই ব্যাধি দুর্নীতি ও বিচারহীনতার ওপর ভর করে এগিয়ে চলছে। প্রধানমন্ত্রী বললে বিচার হয়, অন্যথায় বিচার হয় না। এ রাজনীতি থেকে মুক্তি চাই, ধর্ষকের বিচার চাই। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও নারী নির্যাতনের ঘটনা দ্রুত ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার দাবি জানান তারা।

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেমের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে মাসুদা রেহানা বেগম, রেখা চৌধুরী, রেহানা ইউনুস, মাকসুদা আক্তার লাইলী, জনা গোস্বামী প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

এছাড়া ঐক্যন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূইয়া এক বিবৃতিতে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহি পরিচালক শীপা হাফিজা এক বিবৃতিতে এ ঘটনার দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। এছাড়া সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও জড়িতদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।