Advertisements

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অশুভ উপস্থিতির’ দিন ফুরিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ। জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার ঘটনাকে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতির ‘সমাপ্তি’র শুরু’ বলে বর্ণনা করেন।

এক সাক্ষাৎকারে মি. জারিফ বলেন, “একটা জিনিস শেষ হয়ে গেছে, সেটা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতি। আমার মনে হয় না এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আর (তাদের উপস্থিতি) চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। আমার মনে হয় তাদের দিন শেষ, এটা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে।”

এই সাক্ষাৎকারে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেনন যে, জেনারেল সোলেইমানি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরান এমন সময়ে এবং এমনভাবে পাল্টা আঘাত চালাবে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করা যায়।

 

‘সন্ত্রাসী যুদ্ধ’

ইরান এখন উত্তেজনা কমিয়ে আনতে চায় কীনা- এ প্রশ্নের উত্তরে জাভাদ জারিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে পদক্ষেপ নিয়েছে তার পর ঘটনা এখন নিজের গতিতেই চলবে।

”যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে, ইরাকী পার্লামেন্ট তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই ঘটনা পুরো অঞ্চলের মানুষের অনুভুতিকে আহত করেছে, সেটাকে তো আর ইরান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না,” তিনি বলেন।

”এই হামলায় একজন ইরানী নাগরিক নিহত হয়েছেন। কয়েকজন ইরানী কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এটি ছিল কাপুরোষোচিত কায়দায় চালানো একটি সন্ত্রাসী যুদ্ধ। ইরান এর যথাযথ জবাব দেবে,” মি. জারিফ বলেন।

”উত্তেজনা কমানোর মানে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র আর কোন ব্যবস্থা নেবে না, ইরানকে হুমকি দেয়া বন্ধ করবে, ইরানের কাছে ক্ষমা চাইবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যে কাজ করেছে, তার পরিণতি আছে, এবং এটা ঘটবেই। আমার বিশ্বাস এটা শুরু হয়ে গেছে। আমাদের অঞ্চলে মার্কিন অবস্থানের অবসান এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে।”

‘আইনসঙ্গত টার্গেট’

ইরান কাসেম সোলেইমানি হত্যার বদলা নিতে কি ব্যবস্থা নেবে, তার উত্তরে জাভাদ জারিফ বলেন, ইরান যথার্থ ব্যবস্থা নেবে।

“ইরান আইন মেনে চলা জাতি। যখন আমরা ব্যবস্থা নেব, সেটি হবে যথার্থ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতো নয়। আমরা আইনসঙ্গত টার্গেটেই হামলা করবো,” তিনি বলেন।

তার মানে কি সামরিক লক্ষ্যবস্তু? এর উত্তরে তিনি বলেন, “আইন সম্মত টার্গেটের মানে কি তা আইনের অভিধানে দেখে নিন।”

 

পম্পেওর ভুল উপদেশ

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যা করেছে, তা যুদ্ধ ঘোষণার সামিল। তিনি বিশ্বাস করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভুল বুঝিয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জেনারেল সোলেইমানিকে হত্যার পর তেহরান আর বাগদাদের রাস্তায় মানুষ উল্লাসে নৃত্য করছে, এটাই তিনি বিশ্বাস করেন।

”নিজের টুইটার একাউন্টে তিনি এরকম একটা ভিডিও শেয়ারও করেছেন। এখন হয়তো ইরাক আর ইরানের রাস্তায় জনসমূদ্র দেখেছেন। তিনি কি এখন স্বীকার করবেন যে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিকে ভুল পথে পরিচালনা করছেন,” মি. জারিফ বলেন।

জাভাদ জারিফকে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তিনি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে যেতে পারছেন না।

 

মি. জারিফ জানিয়েছেন, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুটেরেসের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও নাকি মি. গুটেরেসকে ফোন করে জানিয়েছেন, জাভাদ জারিফকে ভিসা দেয়ার জন্য যথেষ্ট সময় তাদের হাতে ছিল না, তাই তারা তাকে কোন ভিসা দিতে পারেন নি।

এর জবাবে নাকি মি. গুটেরেস বলেছিলেন, নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যোগ দেয়ার অধিকার ইরানের আছে।

সাক্ষাৎকারে মি. জারিফের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, জাতিসংঘ সদর দফতর নিয়ে যে চুক্তি আছে, এটি তার লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন আন্তর্জাতিক আইনের কোন ধার ধারে না, কাজেই তারা যে এই চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে সেটাই তিনি আশা করেন না।

By Abraham

Translate »