Advertisements

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। গুলিতে আহত হয়েছেন আরও দুজন। বুধবার রাতে শিবগঞ্জ জোহরপুর সাতরশিয়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক পিলার নম্বর ১৬/৬ এস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ইউনিয়নের দশরশিয়া গ্রামের শফিকুলের ছেলে সুমন (২০) ও এনামুল সরকারের টোলার মৃত বুদ্ধুর ছেলে সেলিম (২১)। নিহত সেলিমের বাবা বুদ্ধু ২০০৮ সালে পদ্মার জলসীমায় অনুপ্রবেশকারী বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন।

বিজিবি ও এলাকাবাসী জানায়, গুলিবিদ্ধ দুজনের মধ্যে একজন বাংলাদেশি ও আরেকজন ভারতীয় নাগরিক। তারা রাজশাহীতে অজ্ঞাত কোনো ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার জোহরপুর সাতরশিয়া সীমান্ত পথে কয়েকজন বাংলাদেশি রাখাল গরু আনতে ভারতের দিকে যাচ্ছিলেন। তারা ভারতীয় সীমান্তের প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে টিকলিচর নামক এলাকায় পৌঁছলে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার চাঁদনিচক বিএসএফ ফাঁড়ির সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই বাংলাদেশি রাখাল নিহত হন। পরে রাতেই বিএসএফ সদস্যরা জিরো লাইনের কাছাকাছি এলাকায় মরদেহগুলো ফেলে রেখে চলে যায়। এলাকাবাসীর সহায়তায় স্বজনরা মরদেহগুলো উদ্ধার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। গভীর রাতে সবার অগোচরে মরদেহগুলো পদ্মার চর এলাকায় দাফন করা হয়েছে।

এলাকাবাসী আরও জানান, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে কেউ মারা গেলে আইনি ঝামেলা এড়াতে এভাবেই গোপনে মরদেহ পদ্মার চরে পুঁতে ফেলা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুবুর রহমান খান জানান, আমি শুনেছি দুইজন নিহত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের লাশ কোথায় আছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আহত দুই জনের বিষয়ে কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই।

By Abraham

Translate »