Advertisements

হ্যাজার্ড তো বহু দিন ধরেই নেই। চোট কেড়ে নিয়েছে সার্জিও রামোসকে। এ মৌসুমের দলের সেরা মিডফিল্ডার হয়ে বসা ফেদে ভালভার্দে নিষেধাজ্ঞা কাটাচ্ছেন। চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় মূল একাদশে নেই করিম বেনজেমাও। আজ সেভিয়ার বিপক্ষে কঠিন এক পরীক্ষা ছিল রিয়াল মাদ্রিদের। সে পরীক্ষায় পাশ করতে নিজেদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অস্ত্রকেই কাজে লাগাতে হলো জিনেদিন জিদানকে। কাসেমিরোর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সেভিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে লিগের শীর্ষে চলে গেল রিয়াল।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ধুঁকেছে রিয়াল। বেনজেমা-রামোস ছাড়া নেতৃত্বের অভাব টের পাওয়া যাচ্ছিল। ভালভার্দের মতো বক্স টু বক্স মিডফিল্ডারের অনুপস্থিতিতে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণও পাচ্ছিল না রিয়াল। উল্টো দিকে প্রেসিং ফুটবল দিয়ে বারবার আক্রমণে উঠছিল সেভিয়া। দুই উইং ব্যবহার করে আক্রমণ করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বুঝে নিয়েছিল হুলেন লোপেতেগির দল। কিন্তু বক্সে ঢোকা হচ্ছিল না। ৩০ মিনিটের দিকে পেরেছিল। আর তাতে দারুণ এক হেডে গোলও করেছিলেন লুক ডি ইয়ং। কিন্তু পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি সেটা বাতিল করে দিয়েছে। ইয়ংকে মার্ক করে রাখা মিলিতাওর সামনে এসে পথ আটকানোয় ফাউল হয়েছিল বলে জানান রেফারি।

হালকা বিতর্ক ছড়ানো এ বাতিল গোলের বদলা সেভিয়া পেয়েছে। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে ওই ডি ইয়ংই গোলার মতো এক শটে হারিয়ে দিয়েছেন ফর্মে থাকা থিবো কোর্তোয়াকে। কিন্তু গোলের আগমুহূর্তে বল দখলের লড়াইয়ে সেভিয়ার মুনির এল হাদ্দাদির হাতে বল লেগেছিল। হাদ্দাদি মাটিতে পড়েছিলেন বটে। কিন্তু ফুটবলের বর্তমান নিয়মানুযায়ী মাঠে এখন হাতে বল লাগলেই সেটা হ্যান্ডবল। প্রথমার্ধের সে বিতর্কের কারণেই হোক বা অন্য কোনো কারণে, এবার আর ভিএআর সেভিয়ার গোল আটকায়নি।

তবু যে সেভিয়া বার্নাব্যু থেকে পয়েন্ট নিয়ে যেতে পারেনি তার কারণ কাসেমিরো। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও নিষ্প্রাণ ছিল রিয়াল। ৫৫ মিনিটে ইয়োভিচের একটি ব্যাক ফ্লিপ সব পালটে দিল। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া সেই ব্যাক ফ্লিপ পেয়ে ঢুকে গেলেন কাসেমিরো। আগুয়ান গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে আলতো চিপে রিয়ালকে এগিয়ে দিলেন কাসেমিরো। ডি ইয়ংয়ের গোলে ম্যাচে সমতা ফেরার পর আবারও হাজির হয়েছেন কাসেমিরো। ৬৯ মিনিটে সেভিয়া রক্ষণের ভুলে গোল লাইনের সামনে ফাঁকা জায়গা পেয়ে গিয়েছিলেন কাসেমিরো। লুকাস ভাসকেজের ক্রস মাপ মতো খুঁজে নিল তাঁকে। দলকে আবারও এগিয়ে দিলেন কাসেমিরো।

ম্যাচের বাকি সময়টা পাল্টাপাল্টি আক্রমণে উপভোগ্য হলেও গোল পায়নি কোনো দলই। গোলের সুযোগ অবশ্য রিয়ালই বেশি পেয়েছে। ২০ ম্যাচে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে অন্তত এক দিনের জন্য হলেও লা লিগার শীর্ষে রিয়াল। আগামীকাল গ্রানাডার বিপক্ষে বার্সেলোনা জয় পেলেই অবশ্য আবারও কাতালানরাই ফিরে পাবে শীর্ষস্থান।

By Abraham

Translate »