Advertisements

দক্ষিণ ভারতের কেরালায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক বিরল নজির স্থাপন করে একটি মুসলিম জামাত কমিটি স্থানীয় মসজিদের ভেতরেই গরিব একটি হিন্দু মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছে।

মসজিদ প্রাঙ্গণেই সম্পূর্ণ হিন্দু রীতি-রেওয়াজ মেনে রবিবার ওই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং জামাত কমিটি নবদম্পতিকে উপহারেও ভরিয়ে দিয়েছেন।

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিন্নারাই বিজয়নও সোশ্যাল মিডিয়াতে এই পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করে ওই শহরের লোকজনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, কেরালাই ভারতের প্রথম রাজ্য যারা সে দেশের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেছে এবং তারা বলছে এই আইন ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী।

কেরালার আলাপুজা জেলার একটি ছোট জনপদ চেরাভাল্লি – যেখানে বাকি রাজ্যের মতোই হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের সহাবস্থান শত শত বছর ধরে।

 

গতকাল (রবিবার) সেই চেরাভাল্লির স্থানীয় মসজিদের ভেতরেই একজন হিন্দু পুরোহিত সম্পূর্ণ শাস্ত্রীয় রীতি-নীতি মেনে বিয়ে দিলেন শরত শশী আর অঞ্জু অশোকের – আর চেরাভাল্লির শত শত মানুষ ভিড় করে এসেছিলেন সেই উৎসবে সামিল হতে।

শুধু অনুষ্ঠানের আয়োজন করাই নয়, বিয়েতে প্রায় হাজারখানেক অতিথিকে খাইয়েওছে স্থানীয় মুসলিম জামাত কমিটি – স্থানীয় মালয়লাম ভাষায় যাকে বলে ‘সাদিয়া’ পরিবেশন করা।

চেরাভাল্লির মেয়ে, নববধূ অঞ্জুকে তারা দশ তোলা স্বর্ণও উপহার দিয়েছেন, নগদ অর্থও দিয়েছেন দুলক্ষ রুপি।

অথচ এভাবে মেয়ের এত জাঁকজমক করে বিয়ে হবে, কখনও তা ভাবতেই পারেননি অঞ্জুর মা বিন্দু অশোক।

তিনি বলছিলেন, “অনেক আগেই আমি স্বামীকে হারিয়েছি – তারপর খুব কষ্ট করে তিন ছেলেমেয়েকে মানুষ করেছি।”

“কিন্তু অঞ্জুর বিয়ে দিতে গিয়ে যখন দেখলাম হাতে একটা পয়সাও নেই, তখনই আমি শরণাপন্ন হয়েছিলাম মুসলিম জামাত কমিটির। ওরাই আমাদের সব স্বপ্ন পূর্ণ করে দিয়েছেন।”

কিন্তু হিন্দু রীতিতে বিয়েটাও যে মসজিদের ভেতরেই হবে, সে সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হল?

চেরাভাল্লি মুসলিম জামাত কমিটির সম্পাদক নুজুমুদিন আলুম্মুট্টিল জানাচ্ছেন, “বিয়েটা যাতে ঠিকঠাক করিয়ে দেওয়া যায়, সেই আবেদন নিয়ে অঞ্জুর মা আমার বাড়িতে এসেছিলেন।”

“তার চিঠিটা নিয়ে আমি জামাত কমিটির সামনে পেশ করি।”

“কমিটিই তখন সিদ্ধান্ত নেয়, সব দায়িত্ব নিয়ে বিয়েটা আমরা শুধু উতরেই দেব না – হলের ভাড়া বাঁচাতে আমরা বিয়েটাও করাব মসজিদ চত্বরেই।”

 

এই অসাধারণ বিয়ে নিয়ে চেরাভাল্লির সাধারণ মানুষরাই শুধু নন, উচ্ছ্বসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও।

ফেসবুক ও টুইটারে সেই বিয়ের ছবি পোস্ট করে কেরালার বামপন্থী সরকারের প্রধান, পিন্নারাই বিজয়ন লিখেছেন, এই ঘটনা ‘কেরালার সামাজিক ঐক্যের এক দৃষ্টান্ত’।

টুইটে তিনি নবদম্পতি ও তাদের পরিবার, মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও চেরাভাল্লির বাসিন্দাদেরও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

চেরাভাল্লির মসজিদে গতকাল যেমন রোজকার মতোই আজান দেওয়া হয়েছে, তেমনি শাস্ত্রীয় মন্ত্রোচ্চারণে হিন্দু বিবাহও সম্পাদিত হয়েছে।

কেরালা সরকার যখন ভারতের নতুন নাগরিকত্ব আইনকে ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে দাবি করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে, তখন এই ঘটনাটিকে তারা রাজ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতির চমৎকার নিদর্শন হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে।

By Abraham

Translate »