জাতীয়

করোনা ভাইরাস নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ

Advertisements

বিশ্বব্যাপী নভেল করোনা ভাইরাসে (2019-nCoV) আক্রান্ত হওয়ার প্রকোপ বেড়েই চলেছে। এই ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশও। তবে এ রোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ ও কর্মপরিকল্পনা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ জানুয়ারি) চীনা কর্তৃপক্ষ করোনা ভাইরাসে ৪১ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। আর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার দুইশ’ ছাড়িয়েছে।

জানা গেছে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে মাত্র ১০দিনে এক হাজার শয্যার হাসপাতাল বানাচ্ছে চীন। হাসপাতালের আয়তন হবে আড়াই লাখ বর্গফুটের বেশি।

এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। আক্রান্ত ব্যক্তি ৫০ বছর বয়সী চীনা নাগরিক বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন দেশটির ভিক্টোরিয়া প্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেনি মিকাকস। অন্যদিকে ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে তিনজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এর আগে চীন বাদে বিশ্বের নয়টি দেশে ২৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানানো হয়। তবে শনিবার তালিকায় যুক্ত হলো অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের নাম। যার মাধ্যমে চীনের বাইরে ১১টি দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ২৭ জনে। ভারতের চার রাজ্য করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে ১১ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তবে বাংলাদেশে নভেল করোনা ভাইরাসের কোনো রোগী পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি ক্রাইসিস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ১৪ জন স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়াও আরো ১০ জনকে নিয়োজিত করা হয়েছে। তাছাড়া একজন নার্স ও একজন চিকিৎসককে এ কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে।

দেশের বাইরে থেকে আসা প্রত্যেক রোগী থার্মাল ক্যামেরা স্ক্যানার ছাড়া প্রবেশ করতে পারছেন না। এ স্ক্যানারে যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা ৯৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে স্ক্রিনে লাল দেখাবে। তখন ওই যাত্রীকে স্ক্রিনিং করা হয়।

তাছাড়া যেসব দেশে রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে-বিশেষ করে চীনসহ থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, হংকং, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকা থেকে আগত যাত্রীদের স্ক্রিনিং না করে বিমানবন্দর থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা বাংলানিউজকে বলেন, এ অবস্থায় বাংলাদেশ ঝুঁকিমুক্ত নয়। তবে মোকাবেলায় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থল/নৌ ও বিমান বন্দরসমূহে ইমিগ্রেশন ও আইএইচআর স্বাস্থ্য ডেস্কসমূহে সর্তকতা এবং রোগের সার্ভিলেন্স জোরদার করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন প্রবেশপথ সমূহে নতুন করোনা ভাইরাস স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালু হয়েছে।

‘নতুন ভাইরাস সম্পর্কে ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ভাইরাস সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধের জন্য রোগ প্রতিরোধ সংক্রান্ত প্রচার কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে।’

ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সাতটি প্রবেশপথে ডিজিটাল থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে আক্রান্ত দেশ থেকে আগত রোগীদের স্পর্শ না করে জ্বর পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে প্রস্তুত রয়েছে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর জন্য রেফারেল হাসপাতাল হিসেবে নির্দিষ্ট রাখা হয়েছে। চিকিৎসা কাজে স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ রোগপ্রতিরোধী পোশাক মজুত রাখা হয়েছে।

প্রস্তুত রয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কোয়ারেন্টাইন ওয়ার্ড। বিমানবন্দরের ভেতরে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্তকরণের জন্য ক্রুদের মাধ্যমে যাত্রীদের মধ্যে হেলথ ডিক্লারেশন ফর্ম ও প্যাসেঞ্জার লোকেটর ফরম বিতরণ করা হচ্ছে। কোয়ারেন্টাইন এবং রোগীর স্ক্রিনিং ব্যবস্থা জোরদারসহ চীন ও আক্রান্ত দেশগুলো থেকে আক্রান্ত যাত্রীদের হেলথ ফরম দেওয়া হচ্ছে।

তাছাড়া জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা বিষয়ক সহায়তার জন্য চারটি হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এসব নম্বর হচ্ছে- ০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫।

এদিকে হটলাইন নম্বরগুলোতে অনেকেই যোগাযোগ করছেন বলে জানিয়েছেন  সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেবরিনা ফ্লোরা।

তিনি বলেন, আমাদের অনেকেই ফোন দিচ্ছে। করোনা ভাইরাসে মানুষ আক্রান্ত কিনা সেটা টেস্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় রি-এজেন্ট আমাদের কাছে সরবরাহ রয়েছে। তাছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আমাদের সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। আমরা সবাইকে বলছি ১৪ দিন পর্যন্ত নিয়মিত চেকিং এ থাকুন। এ রোগের প্রকোপ ১৪ দিন পর্যন্ত থাকে।

‘আমরা এ পর্যন্ত দুইজনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা আমাদের ল্যাবে করিয়েছি। তারা এ রোগে আক্রান্ত নয়। তাছাড়া অন্যান্য দেশের এ রোগের চিকিৎসার ডাটা কালেক্ট করে অ্যানালাইসিস করেছি। এ রোগের মূলত কোনো চিকিৎসা নেই। নরমাল জ্বর ঠাণ্ডার চিকিৎসাই এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা,’ যোগ করেন ডা. ফ্লোরা।