Advertisements

চীনে প্রাদুর্ভাব ঘটা করোনাভাইরাস সংক্রমণ আতঙ্কে রয়েছে পুরো বিশ্ব। এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত এ রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৬। একই সঙ্গে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরো ১২৯১ জন। এ নিয়ে দেশজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উঠে এলো এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

জানা গেছে, প্রথম দিকে এ ভাইরাসে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে তথ্য গোপন করছে চীনা কর্তৃপক্ষ।  এর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন উহান শহরের মেয়র।

চীনা সংবাদ মাধ্যমে ওই শহরে মেয়র ঝাউ জিয়াংওয়াং বলেন, আমরা সময়মতো এ ভাইরাস সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করিনি। ফলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, সরকারের নিয়মমতো এমন পরিস্থিতিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে আগাম কোনো তথ্য প্রকাশ করতে পারে না তারা। তবে রোগ মোকাবিলায় সব চেষ্টাই করা হচ্ছে। এবার, মানুষ যদি তাকে দোষারোপ করে তিনি পদত্যাগ করবেন।

হুবেই প্রদেশের স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, ভয়াবহ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহর থেকে। ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ভ্রমণ কিংবা চলাচলে আরো বাধা-নিষেধ আরোপ করেছে চীন সরকার। ভাইরাসটি এমন সময়ে ছড়ানো শুরু করেছে যখন চীনা নববর্ষ পালিত হতে যাচ্ছে। এ সময়টিতে লাখ লাখ মানুষ বাড়িঘর, আত্মীয় স্বজন কিংবা বন্ধুবান্ধবদের সাথে সাক্ষাতের জন্য ব্যাপক ভ্রমণ করে থাকে। তবে ভাইরাস সংক্রমণ যাতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য চীন সরকার নববর্ষের ছুটি তিনদিন বাড়িয়েছে।

চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে উৎপত্তি হওয়া এ ভাইরাস এরইমধ্যে রাজধানী বেইজিংসহ ২৯টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, নেপাল, ফ্রান্স, সৌদি আরব, কানাডাসহ অন্তত ১২টি দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে।

সোমবার নতুন করে জার্মানিতে পাওয়া গেছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বাভারিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্টার্নবার্গ এলাকার ব্যক্তি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তাকে নির্জন স্থানে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার অবস্থা স্থিতিশীল।

যুক্তরাষ্ট্রেও কয়েকজনের এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর দেশটি তার নাগরিকদের চীনা ভ্রমণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছে, বিশেষ করে উহান যেই প্রদেশে সেই হুবেই ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০০২-০৩ সালে সার্স (সেভার একিউট রেসপাইরেটরি সিনড্রোম) সংক্রমণও বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করে। ওই ভাইরাসটিও চীন থেকে উদ্ভব হয়। এতে চীন ছাড়াও বেশ কয়েকটি দেশের শত শত মানুষ নিহত হয়।

By Abraham

Translate »