Advertisements

ফিনল্যান্ডের নতুন সরকার সব বাবা-মাকে সমান প্যারেন্টাল ছুটি অর্থাৎ সন্তান লালন পালনের জন্য যেমন মায়েদের ছুটি দেয়া হয়, তেমনি বাবাদেরও সমান ছুটি দেয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। যেন বাবারা তাদের সন্তানের সাথে আরও বেশি সময় কাটাতে পারেন।

আর্থিক ভাতা দেয়ার এই সময় বাড়িয়ে সব মিলিয়ে ১৪ মাস করা হবে। অর্থাৎ বাবা-মা প্রত্যেকে ১৬৪ কার্যদিবস করে ভাতাসহ ছুটি পাবেন।

নবজাতকের বাবা-মায়েদের ছুটি দেয়ার ক্ষেত্রে ইউরোপের সবচেয়ে উদার ব্যবস্থা রয়েছে ফিনল্যান্ডের প্রতিবেশী দেশ সুইডেনে। সেখানে কোন শিশু জন্ম নেয়ার পর বাবা-মা প্রত্যেককে ২৪০ দিন করে ছুটি দেয়া হয়।

ফিনল্যান্ড জানিয়েছে যে তারা “সুস্থতা ও লিঙ্গ সমতার প্রচার” করতে চায়।

স্বাস্থ্য ও সমাজ বিষয়ক মন্ত্রী আইনো-কাইসা পেকোনেন সাংবাদিকদের বলেছেন যে, বাবা মায়ের সঙ্গে সন্তানদের সম্পর্ক যেন শুরু থেকেই মজবুত হয়, সেই লক্ষ্যে “পারিবারিক সুবিধার একটি আমূল সংস্কার” করা হয়েছে।

বাবাদের ছুটি নেওয়ার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে:

ফিনল্যান্ডের বর্তমান ব্যবস্থার অধীনে মাতৃত্বকালীন ছুটি দেয়া হয় ৪.২ মাস।

এবং শিশুর বয়স দুই বছর হওয়ার আগ পর্যন্ত যেকোনো সময় বাবাদের ২.২ মাসের জন্য ছুটি দেয়া হতো।

এছাড়াও, আরও ছয় মাসের প্যারেন্টাল ছুটি বাবা-মা দুজনে ভাগ করে নিতে পারতেন।

যাইহোক, গড়ে চারজন বাবার মধ্যে মাত্র একজন তাদেরকে দেয়া এই ছুটি নিতেন। বর্তমান পরিকল্পনায় এখন কেবল প্যারেন্টাল ছুটির কথা বলা হবে। মাতৃত্বকালীন এবং পিতৃত্বকালীন ছুটি বলে আলাদা কিছু থাকবে না।

বাবা-মা প্রত্যেকে ৬.৬ মাসের ছুটি পাবেন (ফিনল্যান্ডের সপ্তাহের ছয়-দিন-সুবিধা পদ্ধতির আওতায় ১৬৪ দিন) এবং গর্ভবতী নারীরা অতিরিক্ত এক মাসের ভাতা পাবেন।

বাবা-মায়েরা তাদের বরাদ্দ এই ছুটির মধ্যে ৬৯ দিনের ছুটি আদান-প্রদান করার অনুমতি পাবেন।

এছাড়া যারা সিঙ্গেল প্যারেন্টস অর্থাৎ একক অভিভাবক, তাদেরকে দুজনের ভাতা একজনকে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হবে।

ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সানা মেরিন গত মাসে বলেছেন যে, তার দেশে এখনও লিঙ্গের সমতা অর্জনের কিছু পথ রয়েছে এবং তিনি অভিযোগ করেন, অনেক কম বাবা তাদের বাচ্চা হওয়ার সময় সন্তানদের সাথে সময় কাটান।

 

বাকি ইউরোপ একই পথে চলেছে

অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যান লিস এলিংসেইটার, যিনি প্যারেন্টাল ছুটির বিষয়ে নর্ডিক তদন্তের নেতৃত্ব দিয়েছেন, বিবিসিকে তিনি বলেন যে নর্ডিক দেশগুলো (পূর্ব ইউরোপের ৫টি দেশ) বাবাদের এমন কিছু সুবিধা দিচ্ছে যা মায়েদের কাছে স্থানান্তর করা যাবে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নও সে পথে এগিয়ে চলছে, ২০১৯ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী জোটের সদস্য দেশগুলোকে বলা হয়েছে প্রত্যেক বাবা-মাকে যেন কমপক্ষে চার মাসের ছুটি দেয়া হয়। যার মধ্যে দুই মাস স্থানান্তর করা যাবে না।

সদস্য দেশগুলোকে এই সুবিধা প্রণয়নের জন্য তিন বছরের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

পর্তুগালে ইতিমধ্যে একটি লিঙ্গ-নিরপেক্ষ ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে শতভাগ বেতনে ১২০ দিনের ছুটি, ৮০% বেতনে আরও ৩০ দিনের ঐচ্ছিক ছুটি দেয়া হয়।

অধ্যাপক এলিংসেইটার বলেছেন, বাবাদের এই বাড়তি সুবিধা দেয়ার সম্পূর্ণ সফলতা নর্ডিক দেশগুলো পাচ্ছিল না।

“১৯৯৩ সালে নরওয়ে প্রথম দেশ যেখানে বাবাদের অ-হস্তান্তরযোগ্য ছুটি দেয়া হয়েছিল, তারপরে সুইডেন তাদেরকে অনুসরণ করে। কিন্তু ডেনমার্ক ১৯৯৯ সালে একটি বাবা কোটা চালু করলেও পরে তা বাতিল করে দেয়, এবং পরে তারা সেটা পুনরায় আর চালু করেনি।”

ডেনমার্কের বাবারা একটি সন্তান জন্মের পর দুই সপ্তাহের ছুটি পান এবং মা-বাবা তাদের মধ্যে আরও ৩২ সপ্তাহের ছুটি ভাগ করতে নিতে পারেন।

ডিসেম্বর থেকে, ফিনল্যান্ড পাঁচ দলীয় জোট দ্বারা পরিচালিত এবং প্রতিটি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন একজন নারী। ৩৪ বছর বয়সী মিস মেরিন বলেছেন যে ফিনিশদের জন্য নারীদের ক্ষমতায় বসানো “এত বড় কোন বিষয় নয়”।

সরকার অনুমান করছে যে এই পরিবর্তনের ফলে অতিরিক্ত ১১ কোটি ডলার ব্যয় হবে।

সুইডেন, নরওয়ে, আইসল্যান্ড, এস্তোনিয়া এবং পর্তুগাল সেরা পরিবার-বান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের জন্য গত বছর ইউনিসেফের একটি প্রতিবেদনে প্রশংসিত হয়েছিল।

এদিকে পারিবারিক সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে তলানিতে থাকা ৩১টি ধনী দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, গ্রীস, সাইপ্রাস এবং সুইজারল্যান্ড।

By Abraham

Translate »