Advertisements

সাগর পথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সেন্টমার্টিনের অদূরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় ১৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৭২ জনকে। এই যাত্রীদের সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে সাগরে নোঙর করে রাখা বড় জাহাজে তুলে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রচণ্ড বাতাসের কারণে বড় জাহাজে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে যাত্রীভর্তি ট্রলারটি ফেরত আনার সময় সেন্টমার্টিনের কাছকাছি পাথরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়। জীবিত উদ্ধার যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে লাশগুলো টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার ৭২ জনের মধ্যে ৪ দালাল ছাড়া বাকিদের যাচাই-বাছাই শেষে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। দালালরা হলেন—টেকনাফের নোয়াখালী পাড়ার ফয়েজ আহম্মদ (৪৮), সৈয়দ আলম (২৭), উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আজিম (৩০) এবং বালুখালীর ওসমান (১৭)।

ট্রলারের প্রধান মাঝি (দালাল) ফয়েজ আহম্মদ বলেন, ‘নুরুল আলম, সৈয়দ আলম ও মো. ইউনুছ—তিন জনই মানবপাচারকারী। তারা দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় বসবাস করে আসছেন। এই ট্রলারটির মালিকও তারা।’

ট্রলারটির প্রধান মাঝি বলেন, ‘ওই ট্রলারের বেশিরভাগ যাত্রী উখিয়াসহ টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরের বাস করেন। সেখান থেকে রওনা দেওয়ার আগে টেকনাফের জুম্মা পাড়া এলাকার একটি পাহাড়ে কেউ পাঁচ দিন, কেউ কেউ এক সপ্তাহ পর্যন্ত ছিলেন। সর্বশেষ দালাল ইউনুছের সঙ্গে কথা বলে সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে তাদের বের করে ট্রলারে তোলা হয়। তার কথা মতে তাদের সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে সাগরে নোঙর করা বড় একটি জাহাজে তুলে দেওয়ার কথা ছিল। তবে বাতাস বেশি থাকায় নোঙর করা জাহাজ পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে তাদের ফেরত আনার পথে সেন্টমার্টিনের কাছকাছি পাথরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ট্রলারটি ডুবে যায়। এই কাজের জন্য ইনুছ আমাকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার পর আরও টাকা দেওয়ার কথা ছিল। ’

কোস্টগার্ড টেকনাফের স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার সোহেল রানা জানান, ‘জীবিত উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে দালাল ও পাচারকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

By Abraham

Translate »