দেশ জুড়ে শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইয়াবাসহ আটক ৩

Advertisements

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বাসভবন বঙ্গবন্ধু টাওয়ার থেকে ৩২ পিস ইয়াবাসহ ১ নারী ও ২ পুরুষ মাদক কারবারীকে আটক করেছে পুলিশ। আটকরা দীর্ঘদিন ধরে এ ভবনে থেকে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন বলে জানা গেছে।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের ৬ নম্বর কক্ষ থেকে তাদেরকে আটক করে শাহবাগ ও কলাবাগান থানার পুলিশ। আটকের বিষয়টি রাজধানীর নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আটকরা হলেন- মো. নাহিদ হোসেন, সৌরভ ও মারিয়ম নিসা। তাদের মধ্যে সৌরভ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসে পিয়নের চাকরি করা মোছা. দেলোয়ারা বেগমের ছেলে। তার বাড়ি পঞ্চগড়ে। অন্যদের মধ্যে সৌরভের বাসা কাঁঠালবাগানে, আর নিসার বাসা লালবাগে। তারা দুজনেই দেলোয়ারা বেগমের নামে বরাদ্দ বাসায় সাবলেট থাকতেন।

সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাবির বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের ৬/সি নম্বর কক্ষ থেকে তাদের আটক করে কলাবাগান থানা পুলিশ। এক্ষেত্রে তারা ঢাবি প্রশাসন ও শাহবাগ থানার অনুমতি নেয়।

সূত্র আরও জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আবাসিক ভবন বঙ্গবন্ধু টাওয়ারে অভিযান চালিয়ে ৩২ পিস ইয়াবা, দুটি মদের বোতল, ৮টি মোবাইল ফোন, ১০-১২টি ব্যবহৃত সিম, মেমোরি কার্ড, পেনড্রাইভ, ল্যাপটপ, হার্ড ডিস্ক, নগদ ১১ হাজার টাকা, ১ হাজার ৫০০ ভারতীয় রুপিসহ ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে সে বাসায় তালা ঝুলতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল হাসান বলেন, শনিবার কলাবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে কলাবাগান থানা পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সৌরভকে ধরতে মাঠে নামে পুলিশ।

তিনি আরও বলেন, সৌরভ ঘোষণা দিয়েছিল তাকে কেউ ধরতে পারবে না। আমরা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করি। এরপর শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে সৌরভসহ তিনজনকে আটক করি। তাদের মধ্যে নাহিদকে সৌরভ তার মামা এবং নিসাকে বান্ধবী বলে পরিচয় দেয়। তারা তিনজনই এই মুহূর্তে কলাবাগান থানায় আটক আছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসাগুলো বরাদ্দ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত এস্টেট ম্যানেজার সুপ্রিয়া দাস বলেন, আমি এ ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে লোক পাঠিয়ে জানতে পেরেছি সে বাসায় তালা দেয়া। রাতে ভবনটির নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত সিকিউরিটি গার্ডকে ডেকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করব। আমি যেটুকু জেনেছি তার ওপর ভিত্তি করে আগামীকাল (আজ) সে কক্ষ সিলগালা করব এবং সেই বরাদ্দকৃত বাসা অভিযুক্ত কর্মচারীর জন্য বাতিল করব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো অপরাধমূলক কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ যাতে এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয় সে জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানান প্রক্টর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, অফিশিয়ালি কেউ আমাকে এখন পর্যন্ত বিষয়টি সম্পর্কে জানায়নি। আমি এই বিষয়ে সম্পর্কে খোঁজখবর নেব এবং এরপর বিশ্ববিদ্যালয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।