Advertisements

চীনসহ বিশ্বের ৩৪টি দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এর বাইরেও ইউরোপের সুইজারল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৯০৮ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত। নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বুধবার সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এই পরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত নতুন চারটি দেশ হচ্ছে আফগানিস্তান, বাহরাইন, ইরাক ও ওমান। এসব দেশে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সবাই ইরানে ভ্রমণ করেছেন। গেল ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৮০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে বেশির ভাগ রোগীই চীনের। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ৭০০ মানুষ মারা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যা ৮২।

আইইডিসিআরের ভাষ্যমতে, সিঙ্গাপুর, ইতালি, ইরানে কোভিড-১৯–তে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সিঙ্গাপুরে আক্রান্তের সংখ্যা ৯১। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড-১৯–তে আক্রান্ত হয়েছে ৫৮ জন। আর ইরানে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ১৩৯। এর মধ্যে মারা গেছেন ১৯ জন।

চীনে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭৭ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২ হাজার ৬৬৬ জন। এশিয়ার মধ্যে চীনের পরে দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এ দেশে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৬০ জন এ রোগে সংক্রমিত হয়েছেন। বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার এক নাগরিক গত মঙ্গলবার জ্বর ও ডায়রিয়ার সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। নমুনা পরীক্ষা করে তাঁর শরীরে এ ভাইরাস শনাক্ত না হওয়ায় তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তাঁকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে আইইডিসিআর এ পর্যন্ত ৮৩ জনের নমুনা শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে কেউ এ ভাইরাসে সংক্রমিত হননি। তবে সংগৃহীত এসব নমুনা দেশের বাইরে পাঠানো হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বললে নমুনা পাঠানো হবে।

সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত পাঁচ বাংলাদেশির অবস্থা স্থিতিশীল, তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই পাঁচজন ছাড়া বাংলাদেশ থেকে যাঁরা দেশের বাইরে ঘুরতে গেছেন বা কাজ করছেন, কোথাও তাঁদের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ব্যক্তি সংক্রমণ না হওয়া পর্যন্ত উদ্বেগের কিছু নেই বলে মন্তব্য করেন সেব্রিনা। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের ৮০ শতাংশ মৃদুরোগী। ১৬ শতাংশের হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে। এর মধ্যে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকতে হয়েছে ৬ শতাংশকে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রস্তুতিতে জোর দিতে বলেছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশে কয়েক ধাপে প্রস্তুতি নিতে একটি খসড়াও করা হচ্ছে। এতে রোগী শনাক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত একধরনের ব্যবস্থা যা বর্তমানে চলছে, অল্পসংখ্যক ও বেশিসংখ্যক রোগী শনাক্ত হলে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা–ও থাকছে।

সংবাদ সম্মেলনে মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভ্রমণকালীন সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। পাশাপাশি দেশে ফিরে এসে স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আসতে হবে।

এই রোগ অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে বলে প্রতিরোধে জোর দিতে হবে। শ্বাসতন্ত্র সংক্রমণ প্রতিরোধে সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া, কাশি শিষ্টাচার মেনে চলা, অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক মুখ হাত না দেওয়ার পরামর্শ দেন এই পরিচালক। পাশাপাশি গুজবে কান না দেওয়ার প্রতি জোর দেন, আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।

By Abraham

Translate »