Advertisements

যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার দুই সহযোগীকে জাল টাকা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা অবৈধভাবে রাখার মামলায় ফের পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ দিদার হোসাইন রোববার শুনানি নিয়ে সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবা নূরকে রিমান্ডে নেওয়ার এই আদেশ দেন।

আদালত পুলিশের বিমানবন্দর থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান এ তথ্য জানান।

নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পাপিয়া ওরফে পিউ, তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী এবং তাদের ওই দুই সহযোগীকে ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সে সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট,  ২ লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট, ৩১০ ভারতীয় রুপি, ৪২০ শ্রীলঙ্কান রুপি ও সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

দুই দিন পর পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরীসহ চার আসামিকে এ মামলায় পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। ওই দিন শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা অস্ত্র ও মাদকের অপর দুই মামলায় পাপিয়া ও তার স্বামীর পাঁচ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

শামীমার দুই সহযোগীর রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ায় রোববার তাদের আদালতে হাজির করে ফের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম।

আবেদনে বলা হয়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সদস্য হয়ে অবৈধ মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা, চোরাচালান, অর্থের বিনিময়ে জমি দখলসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে জানা গেছে। পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমন তাদের সহযোগিতায় প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অসচ্ছল ও স্বল্প শিক্ষিত নারীদের এনে তাদের দিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে মর্মে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

“আসামিদের আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনে এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক।”

রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে বলা হয়, আসামিদের  কাছ থেকে আরও তথ্য উদ্ধারের জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ দিতে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক।

অপরদিকে আসামিদের পক্ষে মীর মো. শাখাওয়াত হোসেনসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন।

তারা দাবি করেন, আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। নতুন কোনো তথ্য উদঘাটিত হয়নি। আর নতুন কোনো অভিযোগও নেই। বরং তাদের নির্যাতন করা হয়েছে। মূল দুই আসামির রিমান্ড চাওয়া হয়নি। সেক্ষেত্রে সহযোগীদের রিমান্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে দুই জনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

By Abraham

Translate »