Advertisements
যখন বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবেশী দেশ ভারতে মুসলিমদের ওপর চলা নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাচ্ছে, তখন সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে এ নিয়ে মুখ খুললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
প্রতিবেশী দেশগুলোতে কোনো সমস্যা হলে তার প্রভাব পাশের দেশেও পড়ে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, আপনারা এমন কিছু করবেন না, যাতে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে আমাদের সমস্যা হয়।
বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে কুটনীতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- ডিক্যাব আয়োজিত সেমিনারে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমাদের আরেকটি বড় সমস্যা থাকে আমাদের প্রতিবেশী। প্রতিবেশীদের সঙ্গে আমাদের বর্তমান সম্পর্ক সোনালী অধ্যায়।
দক্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সকল সমস্যার সমাধান হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক, ইট ইজ এমিটেবল ফর আদার্স। আলোচনার মাধ্যমে, ডায়ালগের মাধ্যমে আমরা আমাদের বড় বড় সমস্যার সমাধান করেছি। কিন্তু যেহেতু প্রতিবেশী, ওখানে কোনো অসুবিধে হলে সেটার একটা ইমপ্যাক্ট আমাদের ওপর পড়ে। সেজন্য আমরা প্রতিবেশীদের বলি, বন্ধু দেশ এমন কিছু করবেন না, যাতে আমাদের কোনো ধরনের অসুবিধের সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, আমরা তোমাদের বন্ধু। এবং তোমাদের সবচেয়ে বড় বন্ধু।
এ পর্যায়ে মন্ত্রী রসিকতা করে আরও বলেন, দেখেন আবার উল্টা লিখেন না। কারণ আমরা যখন বলি যথোপযুক্ত সম্মান দেবো, তখন ওরা বলে সর্বোচ্চ সম্মান দেবো।
রাজনৈতিক সরকারের অনেক দিক দেখে চলতে হয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আফটার অল ইট ইজ অ্যা পলিটিক্যাল গভর্মেন্ট। জনগণের ভোটেই আমরা নির্বাচিত। এমন অবস্থায়, উই হ্যাভ টু বি সেনসেটিভ পিপল ডিমান্ড এন্ড অ্যাসপিরিশন। এজন্য আমরা প্রতিবেশীদের সবাইকে বলি এমন কিছু করবেন না, যাতে আমাদের জনগণের কাছে জবাবদিহিতার জন্য কষ্ট হয়। বিকজ ইট ইজ উইন, উইন। বন্ধুত্ব হওয়ার ফলে উইন, উইন।
এ আলোচনায়, ২০২৪ সালে লিস্ট ডেভেলপমেন্ট কান্ট্রি (এলডিসি) থেকে বের হয়ে আসলে কিছু বেনিফিট হারানোর শঙ্কার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। এ সংকট সমাধানে পররাষ্ট্র দপ্তরে আলাদা উইং করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বলেন, এ উইং ট্রেড ও ইনভেস্টমেন্ট বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বৈদেশিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে কাজ করবে।
কুটনীতিতে দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে রোহিঙ্গা সংকটকে দায়ী করেন মন্ত্রী। বলেন, আমরা কৌশলগত অবস্থান নিয়েছি এখনও পর্যন্ত আমরা আশাবাদী। তবে যাদের সঙ্গে ডিল করছি ওরা খুব সহজ জিনিস নয়।
মুজিববর্ষে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের পজিটিভি ব্রান্ডিং করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব, সাবেক কুটনীতিক ও ডিক্যাব নেতারা।

By Abraham

Translate »