Advertisements

গণফোরাম নেতাদের পাল্টা-পাল্টি বহিষ্কারের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করলেন কামাল হোসেন।

তবে একইসঙ্গে নিজেকে সভাপতি ও রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক পদে রেখে নতুন কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বিলুপ্ত কমিটিতেও তারা এই দায়িত্বে ছিলেন।

মঙ্গলবার দলীয় প্যাডে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণফোরাম নেতৃত্ব নিয়ে কামাল হোসেনের এই ঘোষণা আসে।

গত বছর এপ্রিলে গণফোরামের জাতীয় কাউন্সিলে কামাল হোসেন সভাপতি ও রেজা কিবরিয়া সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ৫ মে ১০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কামাল হোসেন বলেন, “সংগঠনের স্থবিরতা দূর করতে ২৬ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই বিশেষ কাউন্সিলে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গণফোরামের সভাপতি হিসেবে আমি ৫ মে ২০১৯ তারিখে ঘোষিত গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করছি।

“পরবর্তী জাতীয় কাউন্সিল না হওয়া পর্যন্ত দলের যাবতীয় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দায়-দায়িত্ব পালন করার জন্য ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি ও ড. রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করছি। এই কমিটি গণফোরামের গঠনতান্ত্রিক সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।”

নব্বই দশকের শুরুর দিকে আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে কামাল হোসেন গণফোরাম গঠনের পর এবারই তাদের দল থেকে দুজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। বিএনপি ও তার জোটসঙ্গীদের নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন গণফোরাম।

সম্প্রতি দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের খবর সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়। পাল্টা-পাল্টি বহিষ্কারের ঘটনাও ঘটে।

গত সোমবার গণফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশতাক আহমেদের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, লতিফুল বারী হামিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খান সিদ্দিকুর রহমান ও প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক আব্দুল হাছিব চৌধুরীকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। পরদিন মঙ্গলবার ওই চার জনের স্বাক্ষরে বিজ্ঞপ্তিতে দলের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া, প্রেসিডিয়াম সদস্য মহসীন রশীদ, শফিকউল্লাহ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশতাক আহমেদকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা আসে।

দুই বিজ্ঞপ্তির কোনোটিতেই দলের সভাপতি কামাল হোসেনের স্বাক্ষর ছিল না।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে কামাল হোসেন বলেছেন, নতুন গঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অন্যান্য সদস্যদের নামের তালিকা এ মাসেই ঘোষণা করা হবে।

গণফোরামের মহানগর, জেলা, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো আগের মতো যথারীতি বহাল থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশেষ কাউন্সিলে কামাল হোসনকে সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচিত করে তাকে কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী ‘সাবজেক্ট কমিটি’ গঠন না করে তিন-চারজন কেন্দ্রীয় নেতা নিজেদের পছন্দমতো কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করে সভাপতিকে দিয়ে অনুমোদন করিয়ে নেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

“ওই কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের ফলে সংগঠনের কর্মকাণ্ডে গতি সৃষ্টির পরিবর্তে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয় এবং কতিপয় দায়িত্বশীল নেতা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেন এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলার অভাব দেখা দেয়,” বলা হয়েছে কামাল হোসেনের বিজ্ঞপ্তিতে।

By Abraham

Translate »