Advertisements

ঢাকার ধামরাইয়ে চলন্ত ইজিবাইকের ওপর গাছ পড়ে স্বামী-স্ত্রীসহ একই এলাকার পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তিনজন। তবে অক্ষত অবস্থায় বেঁচে গেছে দুই শিশু। আজ সোমবার ঢাকা-বালিয়া সড়কের মাদারপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন ধামরাইয়ের বালিয়া ইউনিয়নের বাইচাইল গ্রামের নুরুল ইসলাম (৬৫), তাঁর স্ত্রী জাহানারা বেগম (৬০), তেলিগ্রাম গ্রামের মাজেদা বেগম (৫৭) ও আয়েশা বেগম (৫৫) এবং কামারপাড়া গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী সামসুল হক (৪২)।

দুর্ঘটনায় আহত সামসুল হকের স্ত্রী মর্জিনা বেগম ও আয়শার প্রতিবেশী শেফালি বেগমসহ আরও এক নারী। তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অক্ষত অবস্থায় বেঁচে গেছে নুরুল ইসলামের আট বছরের নাতি ও সামসুল হকের তিন বছরের নাতনি। হতাহত ব্যক্তিদের সবাই স্থানীয় বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার বাছাইপর্বে অংশ নিয়ে ইজিবাইকে বাড়ি ফিরছিলেন।

ধামরাই থানার পুলিশ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাছাইয়ের জন্য বালিয়া ইউনিয়নের বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের সোমবার ইউপিতে ডাকা হয়েছিল। এ জন্য ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীরা পরিষদে গিয়েছিলেন। বাছাইপর্ব শেষে নুরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী জাহানারা বেগম, মাজেদা বেগম, আয়শা বেগম এবং সামসুল হকসহ দুই শিশু ও আরও তিন নারী একটি ইজিবাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁদের বহনকারী ইজিবাইকটি বেলা আড়াইটায় ঢাকা-বালিয়া সড়কের মাদারপুর এলাকায় পৌঁছালে সড়কের পাশের গাছের একটি বড় কাণ্ড ইজিবাইকের ওপরে গিয়ে পড়ে। বন বিভাগ থেকে নিলামে ক্রেতার শ্রমিকেরা ওই গাছ কাটছিলেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রিকশাভ্যানের চালক আবদুল লতিফ জানান, গাছ ক্রেতার লোকজন করাতে কেটে সড়কের পূর্ব পাশে গাছের মূল থেকে কাণ্ড বিচ্ছিন্ন করছিলেন। এ সময় সড়কে চলাচলরত যানবাহন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে কেউ ছিলেন না। এ কারণে ডালপালাবিহীন গাছের কাণ্ডটি পশ্চিম দিকে হেলে পড়ার মুহূর্তে ইজিবাইকটি সেখান দিয়ে যাচ্ছিল। ফলে গাছের কাণ্ডটি ওই ইজিবাইকের ওপর গিয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে কাচের টুকরো পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে উপস্থিত লোকজন বলেন, ঘটনার পরপরই এলাকার লোকজন গাছটি সরিয়ে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। এরপর ঘটনাস্থলে নিহত তিনজনের লাশ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদের স্থানীয় ক্লিনিকে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁদের লাশও বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
আয়শার ছেলে মোতালেব হোসেন বলেন, ‘যাঁরা গাছ কাটছিলেন, তাঁদের অবহেলার কারণেই আমার মাসহ আরও চারজন মারা গেছেন। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।’

বালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহাম্মদ হোসেন বলেন, ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে যাচাই–বাছাইয়ের জন্য বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ইউপিতে ডাকা হয়েছিল। বাছাই শেষে বাড়ি যাওয়ার পথে তাঁরা দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, সড়কের পাশের গাছ কাটার সময় গাছের বড় কাণ্ড ইজিবাইকের ওপরে পড়ে। গাছের চাপায় পাঁচজন মারা যান। পরে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। তিনি আরও বলেন, বন বিভাগ থেকে নিলামে কিনে ক্রেতা ওই সব গাছ শ্রমিক দিয়ে কাটাচ্ছিলেন। তাঁদের সতর্কতামূলক কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এ জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

By Abraham

Translate »