অর্থনীতি ও ব্যবসা

করোনায় দিশেহারা বিমান সংস্থাগুলো

Advertisements

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ থেকে বিমান পরিবহনের ক্ষেত্রে।

বাংলাদেশ থেকে একের পর এক ফ্লাইট বন্ধ করে দিচ্ছে বিমান সংস্থাগুলো।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ আক্রান্ত অন্যান্য দেশের সাথে ভ্রমণ যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।

সর্বশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। দেশটি করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সব দেশের নাগরিকদের ভিসা দেয়া স্থগিত ঘোষণা করেছে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত ও কাতার এ ধরণের পদক্ষেপ নেয়।

অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নাগরিকদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে।

সার্বিক পরিস্থিতিতে ঢাকা থেকে পরিচালিত বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের সময়সূচী ব্যাপক ওলট-পালট হয়েছে।

অনিশ্চয়তা ভর করেছে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে।

উদ্বিগ্ন যাত্রীরা ঢাকার বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি এবং এয়ারলাইন্স অফিসে ভিড় করছেন।

এমন একজন মোস্তাফিজুর রহমান, এসেছিলেন ঢাকার গুলশানে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের অফিসে। বোনের বিয়েতে যোগ দিতে দু’সপ্তাহ আগে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে এসেছেন তিনি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাকে অবশ্যই ফিরে যেতে হবে।

মি. রহমান সকালে ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসে গেলে যেখান সেখান থেকে তাকে পরামর্শ দেয়া হয় সৌদি এয়ারলাইন্সে ভ্রমণ করতে। কোন ট্রানজিট যাত্রীকে সৌদি আরবে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না বলে জানানো হয়। সেজন্য বাধ্য হয়ে মি. রহমান এমিরেটস এয়ারলাইন্সের টিকিট বাতিল করেছেন।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পৃথিবীর ১৬টি দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করে। এর মধ্যে ১০টি আন্তর্জাতিক রুটে আগেই ফ্লাইট কাটছাঁট করার ঘোষণা দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাব্বির হোসেন বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, বিমানের প্রতি সপ্তাহে ১৪২টি ফ্লাইট থাকে। কিন্তু করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এখন ফ্লাইট ৯৬টি ফ্লাইট কমিয়ে মাত্র ৪৬টি ফ্লাইট চালু রাখা হয়েছে বলে জানান মি. হোসেন।

কাতার এবং কুয়েতে এরই মধ্যে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এছাড়া ১৩ই মার্চ থেকে দিল্লি এবং কলকাতাগামী সব ফ্লাইট বন্ধ থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

যেসব রুটে ফ্লাইট ইতোমধ্যে কমিয়ে আনা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে – কুয়ালালামপুর, ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, কাঠমান্ডু, জেদ্দা ও মদিনা।

একই অবস্থা তৈরি হয়েছে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোতেও।

বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক কামরুল হাসান  জানান, ঢাকা-কলকাতা রুটে প্রতিদিন একটি ফ্লাইট ছিল, আর ঢাকা-চেন্নাই এবং চট্টগ্রাম-কলকাতা রুটে সপ্তাহে ছিল তিনটি ফ্লাইট।

ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে এ ফ্লাইটগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শুক্রবার থেকে।

বিমান সংস্থাটি এরই মধ্যে তাদের ঢাকা-দোহা ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। ঢাকা থেকে দোহা পর্যন্ত সপ্তাহে চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হতো।

মি. হাসান বলেন, “করনোভাইরাসের সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে এভিয়েশন সেক্টরে। এটা করে স্বাভাবিক হবে সেটাও এখন নিশ্চিত না।”

তিনি বলেন, কেউ যদি টিকিটের টাকা ফেরত নিতে চান তাহলে তাদের টাকা ফেরত দেয়া হবে।

ঢাকার একটি বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্টের কর্মকর্তা আহমেদ সাগর বলেন, একটির পর একটি দেশে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ” আমাদের জন্য সময়টা খুব খারাপ যাচ্ছে। কী হবে বুঝতে পারছি না।”

যাত্রীরা বাধ্য হয়ে হয়তো তাদের টিকিটের টাকা ফেরত নিচ্ছে নতুবা তারিখ পিছিয়ে চলতি বছরের শেষ দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মি. সাগর উল্লেখ করেন।

বিবিসি বাংলা