Advertisements

করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ায় খবর প্রতিনিয়ত আমাদের অনিশ্চয়তা ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে। ফলে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। বিশেষ করে এ উদ্বিগ্নতার সময় আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

করোনা ভাইরাস মহামারির সময় শরীরের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও)।

সোমবার ডব্লিওএইচও এর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের খবরে উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক কিন্তু এর প্রভাব যেন মানসিক স্বাস্থ্যে না পড়ে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান এনজাইটি ইউকের নিকি লিডবেটার বলেন, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার ভয় এবং অনিশ্চয়তা মেনে নিতে না পারাই এনজাইটি ডিজঅর্ডারের সাধারণ লক্ষণ। স্বাভাবিক ভাবেই যাদের এ সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছে।

খবর পড়া কমিয়ে দিন এবং সতর্ক হয়ে পড়ুন
মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য খবর পড়া কমিয়ে দিন এবং কী পড়ছেন সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন।মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন ও দুশ্চিন্তিত করতে পারে এমন খবর দেখা, পড়া ও শোনা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।  করোনা ভাইরাস নিয়ে বেশি বেশি খবর পড়লে মানসিকভাবে আতঙ্কিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তখন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করাও অসম্ভব হয়ে যায়।

যে খবরগুলো দেখতে বা পড়তে নিজের কাছে ভালো লাগে না সে গুলো পড়া বা দেখা সীমিত করার কথা জানিয়েছে ওই সংস্থা। নিউজ পড়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বেড় করে নেয়া উচিৎ।

আমাদের চারপাশে নানা রকম মিথ্যা তথ্য ঘুরছে। করোনা বিষয়ে কোনো খবর জানতে আগে নিরাপদ সোর্স বিশেষ করে সরকারি ওয়েব সাইট লক্ষ্য করার কথা বলা হয়েছে।  কোনো ধরণের গুজবে কান দেয়া যাবে না।  নিজেকে ও প্রিয়জনদের সুরক্ষার জন্য করণীয়গুলো জেনে প্রস্তুতি নিতে তথ্যের আপডেট জেনে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ওই সংস্থা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দূরে থাকুন
টুইটার বা অন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্বেগ সৃষ্টিকারী হ্যাশট্যাগ বা কি-ওয়ার্ড মিউট করে রাখা যায় যেন সেগুলো সামনে না আসে।

ম্যানচেস্টারের বসবাসকারী এলিসন(২৪) বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের দুশ্চিন্তা আরো বাড়িয়ে দেয়।  এক মাস আগে একটি হ্যাশট্যাগ ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গে কিছু অপ্রত্যাশিত বিষয় দেখে উদ্বিগ্ন হয়েছিলাম।  আমি হতাশ হয়েছিলাম এবং কান্নাও করেছিলাম। এরপর থেকে করোনা ভাইরাস হ্যাশট্যাগ করা বিষয়গুলো নিয়ে খুব সতর্ক থাকি। এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছেড়ে বই পড়ে, টেলিভিশন দেখেই সময় কাটানোর চেষ্টা করেন বলে জানান এলিসন।

টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুকে যেসব বিষয়ে অতিরঞ্জিত করা হয় সেগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ  দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

অতিরিক্ত হাত ধুয়া থেকে বিরত থাকুন
যাদের অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার (ওসিডি) রয়েছে, তারা এমনিতেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকেন। কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য বারবার ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মুখে হাত না ছোঁয়ানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা ইত্যাদি প্রচারের কারণে তারা আরও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠতে পারেন। সাবান ও স্যানিটাইজার ব্যবহার অনেক সময় আসক্তিও হয়ে যেতে পারে। আর নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থাকলে, দুশ্চিন্তা করার জন্য হাতে অনেক সময় থাকে।

মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে
করোনায় ভেঙ্গে না পড়ে মোকাবেলার জন্য অন্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। বেশির ভাগ মানুষ আইসোলেশনে থাকবে তাই প্রিয়জনদের খোঁজ রাখতে হবে। তার জন্য প্রিয়জনদের ফোন, ই-মেইল সঙ্গে রাখতে হবে।

আইসোলেশনে থাকার সময় প্রতিদিনকে বৈচিত্রময় করে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে আইসোলেশনে থাকা ওই দুই সপ্তাহ যেন সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়। সময় কাটানোর জন্য বই পড়তে পারেন, মুভি দেখতে পারেন। কোনোভাবেই নিয়মিত জীবনের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না।

ভালো খাবার খাওয়া ও ব্যায়াম করা
আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন হয়ে দুশ্চিন্তা করে  করোনার এ মহামারি মোকাবিলা করা যাবে না। উল্টো মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হবে।  তাই এসময় ঠিক মতো খাবার খাওয়ার পাশাপাশি সুযোগ থাকলে শারীরিক ব্যায়াম করা দরকার। বেশি করে পানি পান করতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তারা ও তাদের পরিবার, যারা কোয়ারেন্টাইন আছেন তারা ও তাদের পরিবার, নীতি নির্ধারক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবার প্রয়োজন রয়েছে। করোনার সময় আতঙ্কিত না হয়ে মোকাবেলায় করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

By Abraham

Translate »