Advertisements

চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস রূপ নিয়েছে ‘বৈশ্বিক মহামারি’তে। বিশ্ব অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলা ভাইরাসটিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সম্ভবত ক্রীড়াঙ্গন। ঘরোয়া প্রতিযোগিতার সঙ্গে বৈশ্বিক আসরগুলোও স্থগিত কিংবা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। সেই ক্রীড়াঙ্গনেরই একজনের কাছ থেকে আসছে খুশির বারতা।

এখনও কোনও ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি বলে করোনা নিয়ে আতঙ্ক বেশি। জার্মানির হফেনহাইম ক্লাবের মালিকানা ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ভাইরাসটির ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পথে অনেকটা এগিয়ে গেছে। ইউরোপের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর, জার্মানভিত্তিক কিউরভ্যাক নামের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিকভাবে ভ্যাকসিনটি প্রয়োগের ‍পথে।

প্রশ্ন আসতেই পারে, ভ্যাকসিন আবিষ্কারের সঙ্গে ক্রীড়াঙ্গনের সম্পর্ক কী? অবশ্যই আছে। কিউরভ্যাকের মালিক ডিয়েটমার হপ জার্মান ক্লাব হফেনহাইমেরও মালিক। আর এখানেই ফুটবল কিংবা ক্রীড়াঙ্গন জড়িয়ে যাচ্ছে করোনাভাইরাসের ওষুধ আবিষ্কারের সঙ্গে। যদি সত্যিই কিউরভ্যাক সফল হয়, সেটি গোটা বিশ্ব তো বটেই, ক্রীড়াঙ্গনের জন্যও হবে বিশাল পাওয়া।

সমান্তরালে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পেয়ে যাবেন হপ। শুনে অবাক লাগতে পারে, এই হফ কিন্তু হফেনহাইম সমর্থকদের অনেকের চোখের কাঁটা! ৭৯ বছর বয়সী জার্মান ক্লাবটির পুনর্জন্ম দিলেও ক্লাব সমর্থকরা দেখতে পারেন না। কারণ একটিই, জার্মান ফুটবল সমর্থকরা মালিকানা ক্লাবের বিরোধী। হপ যখন ক্লাবের মালিকের চেয়ারে বসে, তখন তাদের নিন্দা তো কুড়াবেনই!

যদিও করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে পারলে তার জন্য যে ভালোবাসার বৃষ্টি ঝরবে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। অবশ্য এখনই তিনি প্রশংসা কুড়াচ্ছেন জার্মানদের কাছে। জার্মান এক পত্রিকার খবর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি কিউরভ্যাকের কাছ থেকে ভ্যাকসিনটির স্বত্ব কিনে নিতে চেয়েছিলেন। যদিও তার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে হফের প্রতিষ্ঠানটি।

১৯৪০ সালের ২৬ এপ্রিল হাইডেলবার্গে জন্ম নেওয়া হপ ব্যবসায় জড়িত হওয়ার আগে ছিলেন ফুটবলার। পেশাদার লিগে খেলার সৌভাগ্য না হলেও তরুণ বয়সে মাঠ মাতিয়েছেন ঘরের ক্লাব হফেনহাইমের হয়ে। বড় হয়ে অন্য পেশা বেছে নিলেও মনের মধ্যে ঠিকই জাগ্রত ছিল ফুটবলার স্বত্তা। সেই ভালোবাসা থেকেই ১৯৯০ সালে ধ্বংস হতে বসা হফেনহাইমকে টেনে তুলতে লগ্নি করেন। জার্মান ফুটবলের একেবারে নিচের স্তরে খেলা দলটিকে ওপরে তোলার স্বপ্ন দেখেন।

তার চেষ্টায় চলতি শতাব্দীর শুরুর দিকে তৃতীয় বিভাগে ওঠে হফেনহাইম। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে আরও অর্থ লগ্নি করে ক্লাবকে বুন্দেসলিগায় দেখার লক্ষ্য স্থির করেন হপ। বেশিদিন সময় লাগেনি তার। ২০০৮ সালে দলটি ফেরে জার্মান প্রথম বিভাগ ফুটবলে।

হফেনহাইমকে তলানি থেকে আকাশে তুললেও ভক্ত-সমর্থকদের কাছে তিনি পরিণত হন ‘ভিলেনে’। হপের টাকায় সাফল্য কেনা হয়েছে বলে হফেনহাইমকে ডাকা হয় ‘প্লাস্টিক ক্লাব’ নামে। যে সাফল্যের অর্থ জার্মানদের কাছে একেবারেই নেই। বেশ কয়েকবার সমর্থকদের আক্রমণেরও শিকার হয়েছেন হপ!

সেই হপেরই মালিকানা প্রতিষ্ঠান কিউরভ্যাক করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পথে। হফেনহাইমের সমর্থকরা তাকে নিয়ে এখন কী ভাবছেন?

By Abraham

Translate »