Advertisements

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গত শতাব্দীর মহান ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, ‘তাঁর সমগ্র জীবন আমাদের সবার জন্য অনেক বড় প্রেরণা। বঙ্গবন্ধু মানের একজন সাহসী নেতা, একজন দৃঢ়চেতা মানুষ, একজন ঋষিতুল্য শান্তিদূত, একজন ন্যায়, সাম্য ও মর্যাদার রক্ষাকর্তা, একজন পাশবিকতাবিরোধী এবং যেকোনো জোরজুলুমের বিরুদ্ধে একজন ঢাল।’

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠানে দেওয়া ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি ভারত ও বাংলাদেশ এ দুই নিকট প্রতিবেশীর সম্পর্ক নিয়ে এ আশাবাদের কথা বলেন।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা ভান্ডারি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং ওআইসির মহাসচিব ইউসুফ বিন আহমেদ আল ওথাইমান বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে শুভকামনা জানিয়ে ভিডিও বার্তা দেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, দুই দেশের ঐতিহ্য, আত্মিক বন্ধন, বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ, এই দশকেও দুই দেশের অংশীদারত্ব, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির এক শক্তিশালী ভিত্তি। আগামী বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হবে। পরের বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে ভারতের স্বাধীনতার ৭৫তম বার্ষিকী। এ দুই মাইলফলক শুধু ভারত এবং বাংলাদেশের উন্নয়নকেই নতুন উচ্চতায় নেবে না, দুই দেশের বন্ধনকেও জোরদার করবে।

নরেন্দ্র মোদি তাঁর ভিডিও বার্তার শুরুতে বাংলায় বলেন, ‘নমস্কার! জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সমগ্র বাংলাদেশকে আপনাদের ১৩০ কোটি ভারতীয় ভাই-বন্ধুদের পক্ষ থেকে অনেক অনেক অভিনন্দন ও শুভ কামনা।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে এই ঐতিহাসিক সমারোহে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে তিনি অংশ নিতে পারেননি। পরে শেখ হাসিনার বিকল্প প্রস্তাবে ভিডিওর মাধ্যমে তিনি জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছেন।

মোদি বলেন, তাঁর এই গুণাবলি সে সময় লাখ লাখ তরুণকে বাংলাদেশের মুক্তির জন্য সব প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে নতুন শক্তি দিয়েছিল। আজ আমার খুব ভালো লাগে, যখন দেখি যে বাংলাদেশের মানুষ তাদের প্রিয় দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করার জন্য দিনরাত কাজ করে চলেছেন।

বঙ্গবন্ধুর জীবনকে একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বের জন্য এক মহান বার্তা হিসেবে উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘সব গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ উপেক্ষা করে একটি নিপীড়ক ও দমনকারী সরকার ‘বাংলার ভূখণ্ডের’ ওপর কীভাবে অবিচারের রাজত্ব চালিয়ে জনগণের সর্বনাশ করেছিল, তা আমরা জানি। সে সময় যে ধ্বংসলীলা ও গণহত্যা হয়েছিল, তা থেকে বাংলাদেশকে বের করে এনে একটি ইতিবাচক ও প্রগতিশীল সমাজে পরিণত করার জন্য তিনি তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উৎসর্গ করেছিলেন।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন যে ঘৃণা এবং নেতিবাচকতা কখনই কোনো দেশের উন্নয়নের ভিত্তি হতে পারে না। কিন্তু তাঁর এই ভাবনা এবং প্রচেষ্টা কিছু লোক পছন্দ করেনি এবং আমাদের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ এবং আমরা সবাই ভাগ্যবান যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ঈশ্বরের আশীর্বাদে রক্ষা পেয়েছিলেন। ঘৃণার সমর্থকেরা চেষ্টার কোনো কমতি রাখেনি।’

পাকিস্তানের প্রতি ইঙ্গিত করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আতঙ্ক ও সহিংসতাকে রাজনীতি এবং কূটনীতির হাতিয়ার করে তোলা কীভাবে একটি সমাজ ও জাতিকে ধ্বংস করে দেয়, তা আমরা দেখছি। সন্ত্রাস ও সহিংসতার সমর্থকেরা আজ কোথায়, কীভাবে আছে এবং বাংলাদেশ কোন উচ্চতায় পৌঁছেছে—এটাও বিশ্ববাসী দেখতে পাচ্ছে।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর অনুপ্রেরণায় এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ যেভাবে অংশগ্রহণমূলক ও উন্নয়নমুখী নীতিমালা অনুসরণ করে এগিয়ে চলছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। অর্থনীতি থেকে শুরু করে অন্যান্য সামাজিক সূচকের অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গ টেনে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে গত পাঁচ-ছয় বছরে ভারত এবং বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি সোনালি অধ্যায় রচনা করেছে এবং আমাদের অংশীদারত্বকে নতুন মাত্রা এবং দিশা দিয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আস্থার কারণেই আমরা স্থল ও সমুদ্রসীমানার মতো জটিল সমস্যাগুলো সহজে সমাধান করতে পেরেছি।’
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ যে দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু ভারতের বাণিজ্য অংশীদার নয়, উন্নয়ন অংশীদার সেটিও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি ভারতে উৎপাদিত বিদ্যুতে বাংলাদেশের ঘরবাড়ি ও কারখানা আলোকিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তাঁর মতে, ‘ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের’ মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কে একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। সড়ক, রেল, বিমান, জলপথ বা ইন্টারনেট—এমন অনেক ক্ষেত্রে সহযোগিতা দুই দেশের মানুষকে আরও বেশি সংযুক্ত করছে।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমাদের যৌথ ঐতিহ্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, লালন শাহ, জীবনানন্দ দাশ ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মনীষীরা। বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার ও অনুপ্রেরণা আমাদের এই ঐতিহ্যকে আরও বিস্তৃত করেছে। তাঁর আদর্শ ও মূল্যবোধের সাথে ভারত সর্বদা সংযুক্ত ছিল। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার গভীর সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে এই অভিন্ন ঐতিহ্যের ভিত্তিতে।’

By Abraham

Translate »