জানাঅজানা

কনডমের বাজারে সঙ্কটের শঙ্কা

Advertisements

মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউনে থাকা মালয়েশিয়ার তিনটি কারখানা সপ্তাহখানেকেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী কনডমের ঘাটতি বাড়তে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে জন্মনিরোধক এ পণ্যের শীর্ষ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান।

মালয়েশিয়ার কারেক্স বিএইচডি বিশ্বের প্রতি ৫টি কনডমের একটি বানায় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ কমিয়ে আনতে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এ দেশটি লকডাউন ঘোষণা করায় কারেক্সের তিনটি কারখানাই বন্ধ হয়ে যায়। যে কারণে বিশ্বজুড়ে ইতিমধ্যে ১০ কোটি কনডমের ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

কারেক্সের এসব কনডম সাধারণত ডিউরেক্সের মতো নামি ব্র্যান্ডগুলোর হাত ধরে বাজারজাত হয়।

মালয়েশিয়ার এ কোম্পানি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথকেয়ার সিস্টেম ও জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলসহ বিভিন্ন দাতব্য সংস্থাকেও জন্মনিরোধক এ পণ্যটি সরবরাহ করে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

শুক্রবার মালয়েশিয়ার সরকার লকডাউনের মধ্যেই বিশেষ ব্যবস্থায় কারেক্সকে ফের উৎপাদন শুরুর অনুমতি দিয়েছে; তবে এক্ষেত্রে কোম্পানিটি আগের জনবলের সর্বোচ ৫০ শতাংশকে কাজে লাগাতে পারবে।

“কারখানাগুলোকে ফের গতিশীল করতে সময় লাগবে; অর্ধেক সক্ষমতা দিয়ে চাহিদা পূরণে আমাদের হিমশিম খেতে হবে। আমরা শিগগিরই বিশ্বের সর্বত্র কনডমের ঘাটতি দেখতে যাচ্ছি, যা ভীতিকর। আমার উদ্বেগ হচ্ছে, এ কারণে আফ্রিকার অনেকগুলো মানবিক কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। এই ঘাটতি কেবল দুই সপ্তাহ বা মাসখানেক থাকবে না; থাকতে পারে কয়েক মাসও,” বলেছেন কারেক্সের প্রধান নির্বাহী গোহ মিয়া।

বিশ্বজুড়ে অর্ধেকেরও বেশি মানুষকে গৃহবন্দি করা করোনাভাইরাসের সংক্রমণে মালয়েশিয়ার অবস্থাও বেহাল।

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এ দেশটিতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২ হাজার ৩২০ জনের দেহে কোভিড-১৯ ধরা পড়েছে। মারা গেছে অন্তত ২৭  জন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশটির সরকার আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছে।

মালয়েশিয়া ছাড়া কনডম উৎপাদক দেশের তালিকায় চীন, ভারত ও থাইল্যান্ডও আছে।

ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকেই করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়াতে শুরু করে। ভারত ও থাইল্যান্ডে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেখানে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

লকডাউনের কারণে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মেডিকেল গ্লাভসের মতো চিকিৎসা উপকরণ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও বিপাকে পড়েছে।

তবে ইমেইলে করা মন্তব্যে ডিউরেক্সের এক মুখপাত্র জানান তাদের উৎপাদন স্বাভাবিক আছে এবং এখন পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের ঘাটতির সম্মুখীন হননি।

“আমাদের অনেক গ্রাহকই দোকান থেকে কনডম সংগ্রহ করতে পারছেন না, কিন্তু ডিউরেক্সের অনলাইন দোকানগুলো খোলা রয়েছে। চমৎকার ব্যাপার হচ্ছে, কনডমের চাহিদা এখনও তীব্র, কেননা, আপনি পছন্দ করেন বা না করেন, এটি এখনও খুবই প্রয়োজনীয় জিনিস।

এই সময়ে, এই পরিস্থিতিতে লোকজন নিশ্চয়ই সন্তান নেওয়ার কথা চিন্তা করবেন না। এত এত অনিশ্চয়তার মধ্যে এটা উপযুক্ত সময় নয়,” বলেছেন তিনি।