Advertisements

নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে স্পেনে। টানা চতুর্থ দিনের মতো সোমবার দেশটিতে মৃতের সংখ্যা কমল। এ অবস্থায় ক্রমান্বয়ে লকডাউন তুলে নেওয়ার কথা ভাবছে দেশটির সরকার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যু—উভয় দিক থেকেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে স্পেন। আজ সোমবার সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত স্পেনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৩ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে বলে জানিয়েছে জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এর বিস্তার ঠেকাতে গত ১৪ মার্চ থেকেই স্পেনে অবরুদ্ধ অবস্থা বিরাজ করছে। ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে দেশটির প্রশাসনকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যেই আশার আলো দেখা যাচ্ছে সম্প্রতি মৃতের সংখ্যা কমে আসায়।

স্পেনের প্রশাসন আজ জানিয়েছে, কোভিড-১৯ রোগে গত ২৪ ঘণ্টায় স্পেনে ৬৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই গতি আগের সপ্তাহের তুলনায় অর্ধেক।

স্পেনের হেলথ ইমার্জেন্সি কমিটির প্রধান মারিয়া হোসে সিয়েরা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই ভাইরাসটি বিস্তারের গতি কমে এসেছে।’

তাঁর কথার প্রতিধ্বনি পাওয়া গেছে মাদ্রিদের অক্টোবর টুয়েলভ হাসপাতালের চিকিৎসক ক্রিশ্চিয়ান ভিজিলেও কথাতেও। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসা রোগীর সংখ্যা কমেছে। আমরা ক্লান্ত, কিন্তু আগের তুলনায় পরিস্থিতি ভালো বলতে হবে।’

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নাগরিকদের চলাফেরায় যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তা ধীরে ধীরে তুলে দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে করোনাভাইরাস শনাক্তে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো হবে, যাতে ভাইরাসটি বহনকারী ব্যক্তিদের অন্যদের থেকে আলাদা করা যায়। এমন অনেকেই রয়েছে, যাদের মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি, বা থাকলেও তা খুব মৃদু। এমন ব্যক্তিদের পরীক্ষার আওতায় আনা হবে।

এ বিষয়ে স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী হোসে লুইস আবালোস বলেন, ‘মহামারির এক নতুন পর্যায়ে এখন আমরা। এই অবস্থায় আমরা কিছু বিষয় শিথিল করতে পারি, যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত পরিসরে হলেও শুরু হতে পারে। এর অর্থ এই নয় যে, আমরা গা ছেড়ে দেব। আমরা ভাইরাসটি বিস্তারের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছি।’

By Abraham

Translate »