বিনোদন

মহেশ ভাটকে কেন দুষছে সবাই

Advertisements

বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না ভক্তরা। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, আত্মহত্যা করেছেন ৩৪ বছর বয়সি এই অভিনেতা। কিন্তু ভক্তদের মনে বেঁধেছে রহস্যের দানা।

সুশান্তের মৃত্যুর পর থেকেই ভক্তদের সন্দেহের তীর বলিউডের প্রভাবশালী নির্মাতা মহেশ ভাটের দিকে। যদিও বলিউডে প্রগতিশীল বিষয়বস্তু নিয়ে সিনেমা মহেশ ভাটই প্রথম নির্মাণ করেন। উপহার দেন ‘সারাংশ’, ‘অর্থ’, ‘সড়ক’, ‘জখম’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমা। কিন্তু তাকেই কেন দুষছে সবাই?

মূলত, সুশান্তের কথিত প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তীর সঙ্গে মহেশ ভাটের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই এর মূল কারণ। ‘এম এস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ সিনেমাখ্যাত এই অভিনেতার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহেশ ভাট ও রিয়ার কিছু ছবি ভাইরাল হয়।

ছবিগুলো ২০১৮ সালে এই নির্মাতার জন্মদিনে পোস্ট করেন রিয়া। ক্যাপশনে লেখেন, ‘শুভ জন্মদিন আমার বুড়ো। আপনি আমাকে ভালোবাসা দিয়ে সামলেছেন, ভালোবাসা দিয়েছেন এবং আমাকে উড়তে শিখিয়েছেন। আপনি এমন একজন ব্যক্তি যে অন্যকে আলোকিত করে। আপনাকে কত ভালোবাসি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’

এই ছবি প্রকাশের পর সেই সময় কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন রিয়া। এমনকি পোস্ট মুছে ফেলতে বাধ্য হয়েছিলেন। পরে এ বিষয়ে মহেশ ভাট জানান, তিনি রিয়াকে লজ্জা পেতে নিষেধ করেছিলেন। তার মতে, যারা কটাক্ষ করছে তাদের লজ্জা পাওয়া উচিত।

এদিকে সুশান্তের মৃত্যুর পর মহেশ ভাটের ভাই মুকেশ ভাট দাবি করেন, সুশান্তের করুণ পরিণতির বিষয়টি তিনি আঁচ করতে পেরেছিলেন। তিনি বলেন, ‘কিছু একটার অভাব, কোনো একটা সমস্যা ছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম কারণ অনেক আগে, যখন আমার ক্যারিয়ার শুরু করি, প্রথম সিনেমায় পারভীন ববির সঙ্গে কাজ করেছিলাম এবং দুর্ভাগ্যবশত পরবর্তী সময়ে তিনি সিজোফ্রেনিয়ায় ভোগেন। মনে আছে আমার ভাইকে (মহেশ ভাট) এ বিষয়ে বলেছিলাম, এই ছেলেও পারভীন ববির পথেই এগুচ্ছে। সবাই তার মৃত্যুতে অবাক হয়েছে, কিন্তু আমি হইনি। কারণ আমি বুঝতে পারছিলাম এ রকম কিছু ঘটতে যাচ্ছে।’

মুকেশ ভাটের এই বক্তব্যের পর অভিনেত্রী কঙ্গনা রাণৌত এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘মুকেশ ভাট দাবি করেছেন, সুশান্ত পারভীন ববির পথেই এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু সবাই জানে তারা পারভীন ববির সঙ্গে কী করেছিল!’ গুঞ্জন শোনা যায়, পারভীন ববির সঙ্গে মহেশ ভাটের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

এছাড়া এক সাক্ষাৎকারে লেখিকা সুহরিতা সেনগুপ্ত জানান, সুশান্তের মনের ভেতর লুকানো কষ্ট মহেশ ভাট উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। তিনি ভালো করেই জানতেন চিকিৎসার বিকল্প নেই। রিয়া চক্রবর্তী চেষ্টা করেছিলেন ওষুধের মাধ্যমে যেন দ্রুত সুশান্তকে সুস্থ করে তোলা যায়। নিয়মিত ওষুধ খাচ্ছেন কিনা খোঁজ নিতেন। কিন্তু সুশান্ত ওষুধ খেতে চাইত না। ফলে মহেশ ভাট রিয়াকে সুশান্তের সঙ্গ ত্যাগ করতে বলেছিলেন।

প্রেমের সম্পর্কে থাকলেও সুশান্ত-রিয়ার মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। সুশান্তের চিকিৎসক জানিয়েছেন, রিয়ার আচরণ সুশান্তকে কষ্ট দিতো। এমনকি সুশান্ত যখন তাদের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করতো তখনও রিয়া বিষয়টি ভালোভাবে নিতে পারেনি।

তাহলে কি মহেশ ভাটের কারণেই রিয়ার মন বিগড়ে যাচ্ছিল? একে একে দুই মেলাতে চাচ্ছেন সুশান্ত ভক্তরা। একদিকে সুশান্ত-রিয়ার প্রেম, অন্যদিকে মহেশ ভাটের সঙ্গে রিয়ার ঘনিষ্ঠতা— সব মিলিয়ে যোগসূত্র তো রয়েছেই।  আর সে কারণেই মহেশ ভাটের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন কেউ কেউ।