খেলার খবর

বার্সার বিপক্ষে জোড়া পেনাল্টির সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল?

Advertisements
গত রাতে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ড্র করে আবারও পয়েন্ট খুইয়েছে বার্সেলোনা। দুবার পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়েছেন অ্যাটলেটিকোর সল নিগেজ। কিন্তু দুটি পেনাল্টি কতটুকু যৌক্তিক ছিল, সে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

কয়েকদিন আগে সেল্টা ভিগোর বিপক্ষেও এভাবে ড্র করেছিল বার্সেলোনা। প্রথমে এগিয়ে যাওয়া, তারপর গোল খেয়ে সমতায় খেলা শেষ করা। ধারা বজায় থাকল গতকালও।

এবার নিজেদের মাঠে পয়েন্ট হারাল বার্সা। দুই গোল বার্সার জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। উল্টো দুটি পেনাল্টির সদ্ব্যবহার করে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে অ্যাটলেটিকো। ম্যাচ শেষ হয়েছে ২-২ সমতায়। অ্যাটলেটিকো-বার্সা দুই দলই হতাশ, এই ম্যাচে ‘জয়ে’র উল্লাস করেছেন ৭০০ মাইল দূরে ঘরে বসে ম্যাচটা দেখা রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়েরা। বার্সা ড্র করায় যে লিগ শিরোপা প্রায় রিয়ালের হাতেই চলে এসেছে। দুইয়ে থাকা বার্সার (৭০ পয়েন্ট) চেয়ে ১ ম্যাচ কম খেলেই ১ পয়েন্ট এগিয়ে শীর্ষে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ। কাল রাতে জিনেদিন জিদানের দল খেলতে নামবে গেতাফের বিপক্ষে।

তা শিরোপা লড়াইয়ের নিষ্পত্তি অনেকটাই করে দিয়েছে যে দুটি পেনাল্টি, কাল বার্সার বিপক্ষে দেওয়া সেই দুই পেনাল্টি নিয়েই আছে বিতর্ক। প্রথম পেনাল্টি নিয়ে আগে আলোচনা করা যাক। ডিয়েগো কস্তার আত্মঘাতী গোলে তখন অ্যাটলেটিকো ১-০ গোলে পিছিয়ে। ম্যাচের ১৫ মিনিটে নিজেদের সীমানা থেকে বল পেয়ে দারুণ ক্ষিপ্রতায় বল নিয়ে আক্রমণে ওঠেন দলটার বেলজিয়ান উইঙ্গার ইয়ানিক ফেরেইরা কারাসকো। বার্সা ডিফেন্ডার পিকের বাধা সহজে পার করলেও ডি–বক্সে তাকে ফাউল করে বসেন আর্তুরো ভিদাল। সে পেনাল্টিতেও হয় আরও এক ‘নাটক’।
কস্তার নেওয়া পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে দেন বার্সা গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর দেখা গেল, না, ‘অবৈধভাবে’ শট আটকেছেন স্টেগেন। কস্তার শট নেওয়ার আগেই নিজের গোললাইন ছেড়ে অনেকটা বেরিয়ে এসেছিলেন স্টেগেন। আর সেই ভুলেরই মাশুল দেওয়া লাগে জার্মান তারকার। হ্লুদ কার্ড দেখেন তিনি। ফলে আবারও পেনাল্টি নিতে বলেন রেফারি। এবার আর পেনাল্টি নিতে আসেননি কস্তা। গোল করতেও ভুল হয়নি সল নিগেজের।

কস্তার নেওয়া পেনাল্টি বাতিল করার সিদ্ধান্তে রোষের সৃষ্টি হয়েছে বার্সা শিবিরে। কিন্তু মাদ্রিদভিত্তিক স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার রেফারি বিশেষজ্ঞ আন্দুজার অলিভার জানিয়েছেন, কস্তার পেনাল্টি বাতিল করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। পেনাল্টি নেওয়ার সময় অনেক গোলরক্ষক লাইন থেকে উঠে এসে পেনাল্টি নেওয়া ফুটবলারের সঙ্গে নিজের বৃত্তীয় কৌণিক দূরত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টা করেন, যেটা সঠিক নয়। ভিএআর টের স্টেগেনের সেই ভুলটাই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। কাজেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই।

ম্যাচের ৬২ মিনিটে আরেক নাটক। বার্সা তখন ২-১ গোলে এগিয়ে। আবারও কারাসকোকে পেনলাটি বক্সে ফেলে দেন এক বার্সা তারকা, এবার নেলসন সেমেদো। আবারও পেনাল্টি থেকে গোল করে অ্যাটলেটিকোকে সমতায় ফেরান সল নিগেজ। তবে পড়ে যাওয়ার জন্য সেমেদোর সঙ্গে কারাসকোর যথেষ্ট সংযোগ হয়েছিল কি না, সে নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। এমনকি ম্যাচ শেষে বিভিন্ন ভিডিওতেও দেখা গেছে, সেমেদোর হাঁটুর সঙ্গে হালকা ধাক্কা লেগেছে কারাসকোর, অ্যাটলেটিকোর বেলজিয়ান উইঙ্গার এরপর নিজের পায়ে পায়ে ধাক্কা খেয়ে হুড়মুড়িয়ে পরে গিয়েছিলেন। সেভাবে তাঁকে ট্যাকল করেননি সেমেদো। চাইলে রেফারি এই পেনাল্টিটা না দিলেও পারতেন।
মার্কায় এই পেনাল্টিটা নিয়ে কিছু বলা হয়নি। তবে ইংলিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানে স্প্যানিশ ফুটবল বিশেষজ্ঞ সিড লো লিখেছেন, ‘তিনি (কারাসকো) নিজের পায়ে পায়ে লেগেই পড়ে গেছেন। কিন্তু এখানে প্রশ্নটা হচ্ছে তার আগে তাঁর গায়ে (সেমেদোর) স্পর্শ লেগেছে কি না। রেফারি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লেগেছে। সেমেদো কোনো প্রতিবাদ করেননি, এ বেলায় (ভিএআরে) সিদ্ধান্তটা পরীক্ষা করার জন্য বিরতি অস্বাভাবিকরকম কম সময়ের ছিল।’

Leave a Reply