বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

হুট করে বদলে গেছে পৃথিবী, কমেছে ভূকম্পন

Advertisements

বছরের শুরু থেকেই হুট করে বদলে গেছে পৃথিবী। মানুষ ঘরবন্দী, বিমান বন্ধ, চলছে না গাড়ি-ট্রেনও। শিল্প-কারখানার গেটে তালা, স্কুল-কলেজ এখনো খুলেনি। অনেক দেশে লকডাউন তুলে দেয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সবকিছু চলছে সীমিত আকারে। এই সময়টাতে পৃথিবীর লাভ হয়েছে, মানবসৃষ্ট ভূকম্পন বিশ্বজুড়ে ৫০ শতাংশ কমে গেছে।

গবেষকদের একটি দল বলছে, মানবসৃষ্ট ভূকম্পন কমে যাওয়ার ফলে প্রাকৃতিক উৎস থেকে বিজ্ঞানীরা এখন পরিষ্কারভাবেই সিসমিক সিগন্যাল শুনতে পাচ্ছেন। এসব প্রাকৃতিক উৎসের মধ্যে রয়েছে ছোট ভূকম্পন ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত। সিএনএন।

বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থিত রয়্যাল অবজারভেটরির বিজ্ঞানী টমাস লিকক বিষয়টি সর্বপ্রথম লক্ষ্য করেন। তিনি বলেন, মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে পৃথিবীর কম্পন ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে দেখা যায়। লকডাউনের আগের তুলনায় ১-২০ হার্টস ফ্রিকোয়েন্সিতে (বড় একটি অর্গানের আওয়াজের যে ফ্রিকোয়েন্সি) ভূপৃষ্ঠের দুলুনি এখন অনেক কম।

সারাবিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ভূকম্পন কমার বিষয়টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২৬৮টি সিসমিক স্টেশন থেকে এই তথ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সাধারণত মানবসৃষ্ট কম্পনের জন্য প্রাকৃতিক কম্পন রেকর্ড করতে পারে না এই স্টেশনগুলো।

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে কাঁপুনি কমে যাওয়ার মাত্রা দেখে বিস্মিত হয়েছেন ক্যাল টেক ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। নেপালের ভূকম্পবিদরাও একই প্রবণতা লক্ষ্য করেছেন। প্যারিস ইন্সটিটিউট অব আর্থ ফিজিক্সের একজন গবেষক বলেছেন, ফ্রান্সের রাজধানীতে ভূকম্পন ‘নাটকীয় মাত্রায়’ কমে গেছে।

প্রাণঘাতী মহামারির থাবায় বিশ্বজুড়ে মানুষ যখন আতঙ্কে, তখন ঠিক বিপরীত চিত্র প্রকৃতিতে। একের পর এক শহর-দেশ লকডাউনের কারণে প্রতিদিনই কমছে দূষণের মাত্রা। পরিবেশ যেন নিজের ছন্দ ফিরে পেয়েছে।