Advertisements

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে নিয়মমত মাস্ক পরিধানের কোনো বিকল্প নেই। ইতোমধ্যে জনসমাগম স্থলে মাস্ক পরিধান না করাকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার উপযোগী মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে। এন-৯৫, কেএন-৯৫, এফএফপি-১, এফএফপি-২, এফএফপি-৩, সার্জিক্যাল মাস্ক, সাধারণ পপলিন কাপড়ের মাস্কসহ বিভিন্ন ধরনের মাস্ক হরহামেশাই ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু একটি কথা মনে রাখতে হবে, সব ধরনের মাস্কই কিন্তু সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর নয়। আবার কার্যকর মাস্কগুলোও যথার্থ নিয়ম মেনে না পরলে তা কিন্তু কোনো কাজেই আসবে না। তাই যথার্থ মাস্ক এবং যথাযথ নিয়ম- এ দুয়ের সমন্বয় হওয়া জরুরি।

ডিউক মেডিকেল স্কুলের একদল গবেষক কার্যকর মাস্ক চেনার জন্য একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। এ জন্য তারা লেজার বিম ও মোবাইল ফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করে একটি সহজ উপায় বের করেন। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মাস্ক ব্যবহারে দৈনন্দিন সাধারণ কথাবার্তায় কী পরিমাণে রেস্পিরেটরি ড্রপলেট আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে, তা পরিমাপ করে দেখেন গবেষকগণ।

এ পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয় একটি কালো বক্স, লেজার বিম এবং মোবাইল ক্যামেরা। কালো বক্সটির ডান-বাম দুই পাশেই সূক্ষ্ম চিড় ছিলো এবং লেজার বিমকে প্রথমে উভয়পাশের চিড়ের মধ্য দিয়ে পাঠিয়ে আলোর একটি সূক্ষ্ম পাতলা স্তর তৈরি করা হয়। এ ছাড়া বক্সটির সামনে একটি গোলাকার গর্তও রাখা হয়। যেখানে একজন তার ঠোঁট ও মুখ রেখে কথা বলতে পারেন এবং এ শব্দতরঙ্গ বক্সটির সামনে থেকে পেছন দিকে অগ্রসর হতে পারে। বক্সটির পেছনে একটি মোবাইল ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। বক্সটির সামনের গর্তে যখন কেউ মুখ দিয়ে কথা বলে, তখন কথা বলার সময় কিছু পরিমাণ রেস্পিরেটরি ড্রপলেট বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। যা লেজার আলোর সূক্ষ্ম পাতলা স্তরকে বিভিন্ন দিকে বিক্ষিপ্ত করে ফেলে। কালো বক্সের পেছনে স্থাপিত মোবাইল ক্যামেরাটির সাহায্যে এ বিক্ষেপিত লেজার আলোর পরিমাণ ধারণ করা হয়।

mask-in

গবেষকগণ প্রথমে মাস্ক অপরিহিত অবস্থায় পরীক্ষাটি সম্পাদন করেন। পরবর্তীতে ১৪টি বিভিন্ন রকম মাস্ক ব্যবহার করেও পরীক্ষাটি করা হয়। একই ধরনের মাস্ক দশবার করে পরীক্ষা করে দেখা হয়। এ পরীক্ষায় সব ধরনের মাস্ক কিন্তু কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। এক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো ধরনের মাস্ক পরিধান না করলে কথা বলার সময় নির্গত অধিক রেস্পিরেটরি ড্রপলেট অনেক বেশি পরিমাণে লেজার আলোর স্তরকে বিক্ষেপিত করে। অর্থাৎ মাস্ক ব্যবহার না করলে রেস্পিরেটরি ড্রপলেট আকারে করোনাভাইরাস দ্রুত অধিক পরিমাণে চারপাশের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু তিন স্তর বিশিষ্ট সার্জিক্যাল মাস্ক, এন-৯৫, এন-১০০, এফএফপি-১, এফএফপি-২, এফএফপি-৩ এমনকি কাপড়ের পপলিন মাস্ক ব্যবহার করেও দেখা যায়, কথা বলার সময় অতি নগণ্য পরিমাণ লেজার আলো বিক্ষেপিত হচ্ছে। অর্থাৎ এসব মাস্ক পরিধান করে কথা বললে তেমন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রেস্পিরেটরি ড্রপলেট চারপাশে নির্গত হতে পারে না। যা কালো বক্সের ভেতরের লেজার আলোকে বিক্ষেপিত করতে পারে। অর্থাৎ এন-৯৫, এন-১০০, এফএফপি-১, এফএফপি-২, এফএফপি-৩, তিন স্তরের সার্জিক্যাল মাস্ক, পপলিন কাপড়ের মাস্ক এ পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয় ও করোনাভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধে কম-বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়। সবচেয়ে বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে এন-৯৫ মাস্ক। নেক ফ্লিস বা গেইটার মাস্ক যা সাধারণত অ্যাথলেট বা দৌড়বিদরা ব্যবহার করে থাকেন, এই পরীক্ষায় তা উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়।

mask-in

গবেষণায় আরও দেখা যায়, মাস্কবিহীন অবস্থায় যে পরিমাণে রেস্পিরেটরি ড্রপলেট চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে, এ গেইটার মাস্ক ব্যবহার করলে তার চেয়ে আরও বেশি পরিমাণে রেস্পিরেটরি ড্রপলেট চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং আরও বেশি পরিমাণে লেজার রশ্মিকে বিক্ষেপিত করে। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের মাস্ক বড় বড় ড্রপলেট কণাকে ভেঙে আরও ছোট ছোট কণায় পরিণত করে। যা অ্যারোসল আকারে দ্রুত চারপাশের বাতাসে বেশি পরিমাণে ছড়িয়ে পড়ে। ভাঁজ করা রুমাল বা ওড়না জাতীয় কাপড় এবং উল দ্বারা বোনা মাস্কও এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি এবং করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিহত করতে তেমন ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়।

তাই মাস্ক কেনার সময় সতর্ক হোন, যেন ভুল বা নকল মাস্ক কিনে প্রতারিত হতে না হয়। সঠিক নিয়মে সঠিক মাস্ক পরিধান করোনাভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এজন্য ঘর থেকে বাইরে বের হলে বা কোনো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে অবশ্যই কার্যকর মাস্ক পরিধান করুন। নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন এবং অন্যকেও মাস্ক ব্যবহারে উৎসাহিত করুন।

By Abraham

Translate »