Advertisements

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে সংসদে কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ ও রুমীন ফারহানা। তারা বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পরিচয়ে মানুষকে উঠিয়ে নিয়ে হত্যা করে নাটক সাজানো হচ্ছে। আর সরকার সেগুলোর সার্টিফিকেট দিচ্ছে। এ সময় হারুন সব মানুষ আইনের আশ্রয় লাভের সমান সুযোগ পাবেন কিনা তা জানতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সংসদে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দাবি করেন।

বিএনপির দুই এমপির বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কেউই দায় এড়াতে পারেন না। বিএনপি সরকারের আমলে ক্লিনহার্টের নামে অসংখ্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে বিচারবহির্ভূতভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। অনেকে সেই নির্যাতনে চিহ্ন নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে আইনপ্রণয়ন কার্যক্রম শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে হারুনুর রশীদ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তোলেন।

তিনি বলেন, আজকে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকর প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের বিষয়ে যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে গত ১০/১২ বছরে তিন হাজারের বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজকে যারা স্বজনকে হারিয়েছে, গুম হয়েছে বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে তারা কি আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার পাবে না? সংবিধানের এই বিধানগুলো কি আমরা স্থগিত করে দিয়েছি?

এসময় নিজের নির্বাচনী এলাকার তিনটি ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের‘ উদাহরণ দিয়ে বিএনপির এই এমপি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর বলা হয় পুলিশের ওপর বেপরোয়া গুলিবর্ষণ! এটা কি সম্ভব! পুলিশের কাছে যে অস্ত্র থাকে তা মোকাবিলার জন্য সন্ত্রাসীদের কাছে যে অস্ত্র দরকার…এখানে উদ্ধার দেখানো হয় হাতে তৈরি বাটুল, পিস্তল। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পরিচয়ে মানুষকে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। উঠিয়ে নিয়ে উপর্যুপরী হত্যা করছে।আর নাটক বানাচ্ছে। সরকার সেগুলোর সার্টিফিকেট দিচ্ছে। এইসব ঘটনা ঘটেই চলেছে।

পুলিশের গুলিতে টেকনাফে মেজর (অব.) সিনহার হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও আনেন তিনি।

‘আইনের লাভের অধিকার সব নাগরিক সমানভাবে পাবে কিনা’ সেই বিষয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন এ এমপি।

By Abraham

Translate »