Advertisements

ঠিক এক মাস আগে প্লাজমা থেরাপি নিয়ে নিরাশার কথা শুনিয়েছিল দিল্লির এইমস। কলকাতা অবশ্য তখন আশার কথাই বলেছিল। কিন্তু বুধবার ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল কাউন্সিল (আইসিএমআর) যা বলল, তা অনেকটা এইমসের কথারই প্রতিধ্বনি। অর্থাৎ, করোনাজয়ীর প্লাজমা দিয়ে চিকিৎসা করলেও কোভিড আক্রান্তের মৃত্যুহার কমে না। স্বাভাবিক ভাবেই কেন্দ্রীয় চিকিৎসা গবেষণা সংস্থার এহেন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় হতাশ দেশবাসী। কেননা, প্লাজমা থেরাপিতে অনেকেই আশার আলো দেখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু দেশের ৩৯টি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলা তাদের প্লাজমা থেরাপি সংক্রান্ত ট্রায়ালে যে মৃত্যুহার কমানো যায়নি করোনায়, তা সাফ জানিয়ে দিল আইসিএমআর গঠিত ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স ফর কোভিড।

 

যে সব ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরেও সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তাঁদের রক্তে নিশ্চিত ভাবেই কোভিডের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। করোনাজয়ীর রক্তের সেই অ্যান্টিবডি সম্বলিত প্লাজমা অন্য করোনা আক্রান্তের উপর প্রয়োগ করলে কী ফল হয়, সেই উদ্দেশ্যেই আইসিএমআরের এই প্লাজমা থেরাপি ট্রায়াল। ৪৬৪ জন এমনই মাঝারি মাপের কোভিড আক্রান্তের উপর হওয়া সেই ট্রায়ালে ২৩৫ জনের উপর এই প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করা হয়। বাকি ২২৯ জনের উপর চলে প্রথাগত চিকিৎসা। তাদের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, দু’টি গোষ্ঠীর মধ্যে মৃত্যুহারে কোনও তাৎপর্যপূর্ণ ফারাক নেই।

সেই বিচারে বরং কলকাতায় চলা প্লাজমা থেরাপির ট্রায়ালে কিছুটা ভালো ফলই মিলেছে। দেখা গিয়েছে, এর কোনও রকম বিরূপ প্রভাব দেখা যায়নি। বরং অন্যদের তুলনায় প্লাজমা থেরাপি পাওয়া রোগীদের মধ্যে সামান্য হলেও মৃত্যুহারও কম। তাঁদের শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা অন্যদের চেয়ে দ্রুত হারে শুধরে যাওয়ায় তাঁদের অক্সিজেনের চাহিদা কমেছে অন্যদের চেয়ে দ্রুত। ফলে ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন পড়ার বিচারেও তাঁরা অন্যদের তুলনায় ভালো অবস্থানে ছিলেন। যদিও তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছুটি মেলার হারে তেমন একটা ফারাক দেখা যায়নি অন্যদের চেয়ে। যদিও চিকিৎসকরা বলছেন, এত তাড়াতাড়ি উপসংহারে উপনীত হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। এর জন্য আরও সময় নিয়ে গবেষণাটা হওয়া জরুরি।

Translate »