Advertisements

কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরাতে মিয়ানমারের সঙ্গে তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেও একজন রোহিঙ্গাকেও সেখানে পাঠানো যায়নি। এর কারণ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলছেন, রোহিঙ্গারা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মিয়ানমার সরকারকে বিশ্বাস করে না, তাই তাদের সেখানে ফিরতে অনাস্থা।

শনিবার ২৭তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) ভার্চুয়াল সম্মেলনে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ভার্চুয়াল এই সম্মেলনে আসিয়ানকে উদ্দেশ্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফেরানোর লক্ষ্যে রাখাইনে আসিয়ান, রাশিয়া, চীন, ভারতসহ অন্য যেকোনো বন্ধু দেশকে পছন্দমতো মিয়ানমার বেসামরিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে পারে।’

এর আগেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে মিয়ানমারকে এই প্রস্তাব দেয়া হয়। বাংলাদেশ মনে করছে, আসিয়ানসহ এই রাষ্ট্রগুলো রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে আস্থার ঘাটতি হ্রাস করতে পারে।

সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান না হলে এই অঞ্চলের জন্য বিষয়টি কতটা হুমকির হতে পারে সেই আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের আশঙ্কা, যদি এই সমস্যাটি দ্রুত সমাধান না করা হয় তবে এই সংকট উগ্রবাদের পকেটে পরিণত হতে পারে। যেহেতু সন্ত্রাসীদের কোনো সীমানা নেই, তাই এই অঞ্চলে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে যা আমাদের শান্তিপূর্ণ, সুরক্ষিত এবং স্থিতিশীল অঞ্চলের জন্য হুমকি স্বরূপ।’

এখনো একজন রোহিঙ্গাকে রাখাইনে ফেরাতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে মোমেন বলেন, ‘খুবই দুঃখজনক যে, আজ অবধি একজন রোহিঙ্গাও তার নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যায়নি। চুক্তি অনুযায়ী মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার কথা। কিন্তু তার পরিবর্তে রাখাইন রাজ্যে চলছে লড়াই ও গোলাগুলি।’

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী চেতনায় গঠনমূলক কূটনীতির মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ আগ্রহী।

চলমান মহামারি করোনাভাইরাস মোকাবেলায় রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির কথা আসিয়ানকে জানান মোমেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলা করছে। তবে খুব কমসংখ্যক রোহিঙ্গা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিককে যে চিকিৎসা পাচ্ছেন তারাও (রোহিঙ্গারা) সেটাই পাচ্ছেন।’

করোনার টিকা পাওয়া গেলে কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই তা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে বিতরণে জোর দেয়া হবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ভিয়েতনামের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের চেয়ারম্যান ফাম বিন মিনহ এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।

Translate »