Advertisements

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ক্যাম্পাস’ নামে নতুন একটি ফিচার নিয়ে এসেছে ফেসবুক। এর মাধ্যমে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে আরও সহজে এবং কার্যকরভাবে যোগাযোগ রাখতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘ক্যাম্পাস’ ফিচার চালুর ঘোষণা দেয় ফেসবুক। ফেসবুক গড়ে ওঠার সময়ের যে উদ্দেশ্য ছিল, ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা; অনেকটা সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই সাজানো হয়েছে ক্যাম্পাসের ফিচার।

ফেসবুক ক্যাম্পাসের প্রোডাক্ট ম্যানেজার চারমান হাং এক ঘোষণায় বলেন, আমরা ক্যাম্পাস চালু করতে যাচ্ছি যেটা শুধু কলেজ (বিশ্ববিদ্যালয়) ভিত্তিক স্থান নিয়ে সাজানো, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সহপাঠীদের সাথে যুক্ত হতে পারবেন। শিক্ষার্থীরা যেসব বিষয়ে নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সেসব বিষয়ে আরও যাদের আগ্রহ আছে তারা একে অপরকে খুব সহজেই খুঁজে পাবেন এবং আলাপচারিতা শুরু করতে পারবেন।

যেভাবে কাজ করবে ফেসবুক ক্যাম্পাস
ফেসবুক অ্যাপে ‘ক্যাম্পাস’ নামে ভিন্ন একটি সেকশন থাকবে। সেখানে ফেসবুক ব্যবহারকারীর ভিন্ন একটি প্রোফাইল থাকবে। ব্যবহারকারীর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে এই প্রোফাইল একেবারেই আলাদা। এই প্রোফাইল তৈরি করতে হলে শিক্ষার্থীদের তাদের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেইল ঠিকানা এবং স্নাতক বর্ষ সাল অবশ্যই দিতে হবে। এর বাইরে পড়াশুনার মূল বিষয়ের নাম, নিজ শহরের নাম— এ ধরনের তথ্যও চাইলে ব্যবহারকারী দিতে পারেন তবে সেটা বাধ্যতামূলক নয়। ক্যাম্পাস প্রোফাইল তৈরি হয়ে গেলে শিক্ষার্থীরা শুধু তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত বিভিন্ন গ্রুপ এবং ইভেন্টের তথ্য পেতে শুরু করবেন। আর সেখান থেকে সহপাঠীদের খুঁজে নিয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। যখন ক্যাম্পাস সেকশনে কোন কনটেন্ট শেয়ার করা হবে সেটি শুধু ক্যাম্পাস ফিচারে থাকা শিক্ষার্থীদের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ফেসবুকের মূল হোমপেইজ বা নিউজফিডে সেসব কনটেন্ট আসবে না।

ফেসবুক বলছে, বিশেষায়িত এই নিউজফিডের বাইরে আরও দুইটি ইউনিক ফিচার আছে ক্যাম্পাসের। এক. একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহপাঠীরা যেন একে অপরকে সহজে খুঁজে পান তার জন্য একটি ডিরেক্টরি তৈরি করা আছে ক্যাম্পাসে। দুই. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হোস্টেল, বিভিন্ন গ্রুপ এবং বিষয় ভিত্তিক আলাদা আলাদাভাবে সহপাঠীদের সাথে রিয়েল টাইম চ্যাটিং করা যাবে। শুধু নিজেদের মধ্যে গ্রুপ তৈরি করে গ্রুপ স্টাডি, কনসার্ট এবং স্টুডেন্ট কাউন্সিলিং এর মতো ফিচারও ব্যবহার করতে পারবে ক্যাম্পাস সদস্যরা।

চারমান হাং বলেন, একদম শুরুর দিকে ফেসবুক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিকই একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছিল। এখন আমরা আমাদের সেই শেকড়ের দিকেই এগোচ্ছি। শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে দূরে থাকলেও ক্যাম্পাস তাদের মধ্যেকার সম্পর্ককে আরও জোরালো করতে সক্ষম হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী থাকাকালে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ছবিযুক্ত একটি অনলাইন তথ্যভাণ্ডার তৈরি করেছিলেন মার্ক জুকারবার্গ। তবে সেখানে শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রোফাইল নিজেই তৈরি করার সুযোগ রাখেন তিনি। একই সাথে শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের মাঝে যোগাযোগ করতে পারেন সেই ফিচারও দেন। সেই সময় ‘দ্য ফেসবুক’ নামে যাত্রা করা প্ল্যাটফর্মটিই আজকের বিশ্বে সর্ববৃহৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম– ফেসবুক

By Abraham

Translate »