Advertisements

সুলতানা ফিরদৌসীর জন্ম ১৯৭৪ সালে ১১ই ডিসেম্বর কুষ্টিয়ায়। বাবার কর্ম সূত্রে স্থানিয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে আশৈশব বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে দেখার সুযোগ হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সোস্যাল ওয়েলফেয়ার নিয়ে মাস্ট্রার্স করেন।
তার প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৭সালে,“কীট ও দ্রোনপুষ্প। “তৃতীয় পক্ষ”তার প্রথম উপন্যাস ১৯৯৯সালে a।২০০৫ সালে আগামী প্রকাশনী থেকে ছোট গল্প নিয়ে একটি বই “এবার ঘরে ফেরার পালা”। শ্রাবণ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছিল গ্ৰন্থ “বৃক্ষেরা ভিজে যায়”কবিতা। সুলতানা ফিরদৌসীর গ্ৰন্থ
সংখ্যা ‌মোট ৬টি বর্তমান সময়ে তিনি কাব্য গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তিনি কথা ও কবিতা নিয়ে কাজ করছেন প্রায় ২১বছর। তার সর্বশেষ অনুবাদ কবিতার বই বেরিয়েছিল ২০১৯সালে।“agirl has no name”. কবিতা লিখতে তার আবেগ সেই জন্যই সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে জীবনের চরম সত্য ছুঁয়ে দেখতে চান।
সুলতানা ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে কমিউনিটি ডেপলপমেন্ট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অনেক বছর, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেন রাষ্ট্রীয় সেবা ইউনিসেফের সাথে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়েADBর সাথে ঢাকা সিটি করপোরেশন যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সকল প্রকার উন্নয়ন মূলক কাজ করেন। বর্তমান সময়ে সাহিত্য ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান নারী মুক্তির আন্দোলনে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করতে চেষ্টা করছে সংগঠন “কালি”র সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত।

প্রশ্নোউত্তর পর্ব
(১) আপনার লেখায় কারো প্রভাব আছে?
উঃ আমার লেখা লেখি নিজের ডাইরি লেখা থেকে শুরু হয়েছিলো। একদম নিজের মতো করে, হৃদয়ের কথা যাতে
নিজের নামে প্রকাশ করতে পারি সেই
বেদনা থেকে কবিতা লিখতে ইচ্ছে করে
সেই থেকে শুরু আমার লেখা লেখি।
বাংলা একাডেমীর তরুণ লেখক প্রজেক্টের আওতায় আমার লেখা লেখির জন্য উপকৃত হই। ওখানে আমার অনেক কবি ও লেখকদের মধ্যে পরিচয় হয় লেখার জগৎ এর আরো মানুষের সাথে কমিউনিকেশন হয়। লেখার জন্য ভালোবাসা তৈরি করে।

(২)প্রঃলেখালেখি করতে গিয়ে বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন কিনা?

উঃ লেখা লেখি করি কাকতালীয় ভাবে
তখন সিরিয়াসলি লিখতে শুরু করলাম
যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন ঘটনা গুলো বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় যেহুতো আমার অবস্থান মফস্বলের এক জায়গায়। পরবর্তী সময়ে বাংলা একাডেমী থেকে বই প্রকাশিত হয়েছিল এবং বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই।প্রধান অন্তরায় বিবাহিত জীবন। স্বামীর সঙ্গে মতের অমিল,অবমমুল্যায়ন লেখার সময় না পাওয়া প্রতিটি স্টেপে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়
সেই জন্য বেশ কিছু দিন লেখা লেখি বন্ধ ছিল।

(৩)প্রঃ প্রথম লেখা প্রকাশের অনুভূতি বলুন।

উঃ আমার জীবনের প্রথম বই বেরিয়েছিল তখন আমার মনে হয়েছিল মনিমুক্তোর স্বাদ যেন ফিরে পেলাম। জীবনে সবচেয়ে স্মরনীয় ঘটনা আমার প্রকাশিত বই। জয়ের নেশায় মেতে ছিলাম। স্বপ্নের বৃষ্টিতে ভিজতে লাগলাম।

(৪)প্রঃ নারীবাদ সম্পর্কে আপনার ভাবনা?

উঃ কেতাবি নারী সাথে আমি সম্পৃক্ত হতে চাই না। বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন আসলেই নারী মুক্তির দাবিতে ভালো কাজ করে গেছেন তিনি যে স্বপ্ন দেখেছিলেন কিছুটা হলেও সফল। নারীর অবস্থান কৈ মাছের প্রানের মতো। আগুন জল লোহা হজম করে আশ্চর্যময়ী নারীর চরিত্র। দেশভাগ,যুদ্ধ তছনছ করেছে নারীর বাস্তব জীবন। তারপরও মেয়ে হওয়ার গ্লানি ভুলে সামনে এগিয়ে যাবার প্রধান কাজ হবে নারীবাদ। পুরুষের সাথে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যেতে হবে। নারীবাদ মানে পুরুষের ওপর শুধুমাত্র আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা নয় মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে সফল হওয়া।

(৫)প্রঃ স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে
নারী মুক্তির আন্দোলনে নারী সংগঠনের ভূমিকা সম্পর্কে অভিমত।

উঃ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পুরুষের পাশাপাশি নারীর অবদান অনস্বীকার্য।
মা বোনদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা। মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে নারী আত্মনির্ভরশীল হতে সচেতন হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সামাজিক ও নারী সংগঠনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ একটি অবদান রাখতে সহায়তা করে বিশেষ করে গ্ৰামের নিরক্ষর নারী সমাজের কাছে কাজের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার আগ্ৰহ জাগিয়ে তুলতে সহায়তা করে।
জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা ২০১১
নারী মুক্তির আন্দোলনে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করে। এ ধরনের উদ্যোগ গ্ৰহন নারীর অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ পাবে।
নারী মুক্তির আন্দোলনে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলো। যদিও যেভাবে চিন্তা করা হয়েছিল বাস্তবায়ন করার সময় মৌলবাদী শক্তির উৎস বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের পারিবারিক কাউন্সিলিং দরকার এবং মেয়েকে সমানভাগে ভাগ দিতে হবে অধিকার ও সন্মান দিতে হবে, এখনো আমাদের মেয়ে সন্তানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে দ্বিধা করি এমনকি যখন সে বিপদে পড়ে তখন সবাই মিলে সাহস নিয়ে এগিয়ে যাবার উদ্যোগ গ্ৰহন নারীর অবস্থান কে শক্তিশালী করবে। নারী মুক্তি তখন হবে যখন বাংলাদেশের জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ নারী জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

By Hasan

Leave a Reply

Translate »