Advertisements

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে হোয়াইট হাউসে বিষাক্ত পদার্থ রাইসিন মেশানো চিঠি পাঠানোর ঘটনায় সন্দেহভাজন একজন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বরাত দিয়ে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন ওই নারী ২০ সেপ্টেম্বর কানাডা থেকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই নারীর কাছ থেকে একটি বন্দুক জব্দ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিসের একজন মুখপাত্র সন্দেহভাজন ওই নারী গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি ২০ সেপ্টেম্বর নিশ্চিত করে বলেছেন, এ বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিস বিষয়টি তদন্ত করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হোয়াইট হাউসে আসা যেকোনো চিঠি ভেতরে পৌঁছানোর আগেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ওই পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেই রাইসিন মেশানো চিঠির বিষয়টি ধরা পড়ে। ক্যাস্টর ওয়েল তৈরি হয় যে বীজ থেকে, সেই বীজ থেকে বিষাক্ত রাইসিন তৈরি হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীদের ধারণা, চিঠিটি কানাডা থেকে এসেছে। সন্দেহভাজন একজন নারী ওই চিঠি কানাডা থেকে পাঠিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে হোয়াইট হাউসে পাঠানো চিঠি কানাডার কুইবেকের সেন্ট হুবার্ট থেকে এসেছে। চিঠিটি দুই দফা পরীক্ষা করা হয়েছে। দুই পরীক্ষাতেই বিষাক্ত রাইসিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

দ্য রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের (আরসিএমপি) একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসে রাইসিন মেশানো চিঠি পাঠানোর বিষয়টি তদন্তে তাঁরা এফবিআইয়ের সঙ্গে কাজ করছেন। তবে সন্দেহভাজন ওই নারী গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়ে এই মুহূর্তে আরসিএমপি কোনো বিবৃতি দেওয়ার পরিস্থিতিতে নেই।

এফবিআইয়ের ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিষ মেশানো চিঠির বিষয়ে এফবিআই, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ও মার্কিন পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিস যৌথভাবে তদন্ত করছে। ওই চিঠি নিয়ে এই মুহূর্তে আর কোনো ধরনের ঝুঁকি বা হুমকি সংস্থাটি দেখছে না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে হোয়াইট হাউসে পাঠানো বিষাক্ত পদার্থ রাইসিন মেশানো চিঠির মতোই একই ধরনের একটি চিঠি টেক্সাসেও পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, টেক্সাসের চিঠিটিও কানাডা থেকে একই ব্যক্তি পাঠিয়ে থাকতে পারেন।

কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী বিল ব্লেয়ারের প্রধান মুখপাত্র মারি-লিজ পাওয়ার বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে হোয়াইট হাউসে পাঠানো বিষাক্ত পদার্থ রাইসিন মেশানো চিঠির বিষয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। ঘটনা তদন্তে কানাডার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। রাইসিন কোনোভাবে খেয়ে ফেললে, নিশ্বাস বা ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে মাথা ঘোরা, বমি ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হয়। একপর্যায়ে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হতে থাকে। কতটুকু পরিমাণ রাইসিন শরীরে প্রবেশ করেছে তার ওপর নির্ভর করে ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মানুষের মৃত্যু ঘটে

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে, রাইসিন কোনোভাবে খেয়ে ফেললে, নিশ্বাস বা ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে মাথা ঘোরা, বমি ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হয়। একপর্যায়ে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হতে থাকে। কতটুকু পরিমাণ রাইসিন শরীরে প্রবেশ করেছে তার ওপর নির্ভর করে ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মানুষের মৃত্যু ঘটে। রাইসিনের বিষক্রিয়া প্রতিরোধে কোনো প্রতিষেধক নেই। রাইসিন দিয়ে তৈরি গুঁড়া ও স্প্রে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

By Abraham

Translate »