Advertisements

কষ্ট করে যেসব ব্রাজিল সমর্থক ভোরবেলায় উঠে খেলা দেখতে বসেছিলেন, তাঁদের হতাশ করেননি নেইমার। পিএসজি তারকার আরেকটা অসাধারণ পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। নেইমারের হ্যাটট্রিকের রাতে সেলেসাওরা জিতেছে ৪-২ গোলে।

তিন গোল করার পাশাপাশি এক দুর্দান্ত রেকর্ডেও নিজের নাম লিখেছেন নেইমার। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে এত দিন পেলের পর সবচেয়ে বেশি গোল ছিল কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদোর। হ্যাটট্রিক করে এখন দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন নেইমার। হলুদ জার্সিতে এখন নেইমারের গোল ৬৪, রোনালদোর চেয়ে দুটি বেশি। ওদিকে পেলে ৭৭ গোল নিয়ে যথারীতি শীর্ষে। তবে নেইমার যে গতিতে এগোচ্ছেন, পেলে কত দিন শীর্ষে থাকেন, সেটাও দেখার বিষয়!

৪-৩-৩ ছকে মোটামুটি আগের ম্যাচের দলটাই অপরিবর্তিত রেখে নেমেছিল ব্রাজিল। পরিবর্তন ছিল শুধু এক জায়গায়। রাইট উইংয়ে এভারতন সোয়ারেস নয়, মূল একাদশে ছিলেন রিচার্লিসন। গোলবারের নিচে লিভারপুলের আলিসন বা ম্যানচেস্টার সিটির এদেরসন ছিলেন না, ছিলেন পালমেইরাসের ওয়েভারতন। সামনে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে থিয়াগো সিলভা-মার্কিনিওসের জুটি, দুই ফুলব্যাক হিসেবে আতলেতিকো মাদ্রিদের রেনান লোদি (বাম) ও জুভেন্টাসের দানিলো (ডান)। দুই রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে ছিলেন অ্যাস্টন ভিলার তরুণ মিডফিল্ডার দগলাস লুইজ ও রিয়াল মাদ্রিদের কাসেমিরো। মিডফিল্ডারদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত আক্রমণাত্মক ভূমিকায় ছিলেন ফিলিপ কুতিনিও, সবার ওপরে খেলেছেন রবার্তো ফিরমিনো। এ ছাড়া বাঁয়ে নেইমার, ডানে রিচার্লিসন।

শুরুতেই ব্রাজিল-রক্ষণের একটা ভুলের ফায়দা তুলে এগিয়ে যায় পেরু। গোল করেন স্ট্রাইকার আন্দ্রে কারিয়ো। পিএসজির সেন্টারব্যাক মার্কিনিওসের গায়ে লেগে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বল সরাসরি চলে যায় কারিয়োর কাছে, সেখান থেকে জোরালো শটে গোলরক্ষক ওয়েভারতনকে পরাস্ত করেন বেনফিকা, স্পোর্তিং লিসবন ও ওয়াটফোর্ডের মতো ক্লাবের হয়ে খেলা এই উইঙ্গার। ম্যাচের ১৫ মিনিটে সহজ এক সুযোগ নষ্ট করেন ফিরমিনো। রিচার্লিসনের কাছ থেকে বল নিয়ে গোলরক্ষককে একা পেয়েও সরাসরি তাঁর গায়ে মেরে দেন লিভারপুল তারকা।

২৬ মিনিটে নেইমারের জার্সি ধরে টান দিয়ে তাঁকে ডি-বক্সের মধ্যে ফেলে দেন পেরুর মিডফিল্ডার ইয়োশিমার ইয়োতুন। সেখানে থেকে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল হয়নি নেইমারের। ম্যাচের আগে রোনালদোর চেয়ে মাত্র এক গোলে পিছিয়ে থাকা নেইমার এই গোলের মাধ্যমে ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এই স্ট্রাইকারকে ছুঁয়ে ফেলেন।

৫৯ মিনিটে অনেকটা ভাগ্যের দোষে দ্বিতীয় গোল খেয়ে বসে ব্রাজিল। পেরুর ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার রেনাতো তাপিয়া ডি-বক্সের বাইরে থেকে যে জোরাল শট নেন, তা ফ্লামেঙ্গোর ডিফেন্ডার রদ্রিগো কাইওর গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে ঢুকে যায় জালে। গোলরক্ষক ওয়েভারতন শট নেওয়ার সময় ডানদিকে ঝাঁপিয়েছিলেন বটে, কিন্তু বলের দিক পরিবর্তিত হয়ে তা জালে ঢোকে।

অবশ্য বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকতে হয়নি ব্রাজিলকে। ৬৪ মিনিটে ফিরমিনোর অ্যাসিস্টে পা ঠেকিয়ে সেলেসাওদের সমতায় ফেরান রিচার্লিসন। ৮৩ মিনিটে আবারও আরেকটা পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন নেইমার। এই গোলটা হজম করে পেরু যেন আরও বেশি স্নায়ুচাপে ভুগতে শুরু করে। অযাচিতভাবে রিচার্লিসনের মুখে আঘাত করে মেরে লাল কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার কার্লোস জামব্রানো। সে কার্ড নিয়ে রেফারির সঙ্গে তর্কাতর্কি করতে গিয়ে মাঠ ছাড়ার নোটিশ পান কার্লোস কাসেদাও। রাতারাতি নয়জনের দল হয়ে যায় পেরু। সে সুবাদে নিজের তৃতীয় ও দলের চতুর্থ গোল করে ব্রাজিলকে বড় জয় এনে দেন নেইমার।

গোটা ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছেন এই তারকা। তিন গোল করা ছাড়াও গোলের সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন দুবার, সফল ড্রিবল করেছেন আটবার। ব্রাজিল কোচ হিসেবে নিজের পঞ্চাশতম ম্যাচে এর চেয়ে বড় পুরস্কার হয়তো পেতে পারতেন না তিতে!

By Abraham

Translate »