Advertisements

ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতেই সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর বাজার ফাঁড়িতে ‘হেফাজতে’ থাকা রায়হান আহমদের মৃত্যু হয়েছে। কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তে এ তথ্য মিলেছে।

ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিলেট ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, ‘রায়হানের শরীরে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার দুই তিনটি নখ উপড়ানো ছিলো। নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা বেশি। আমরা রিপোর্টে পূর্ণাঙ্গ তথ্য উল্লেখ করেছি, তবে তা অত্যন্ত গোপনীয়।’

ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেতে ২০ দিন সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল ৩টার দিকে রায়হানের মরদেহ ফের দাফন করা হয়। এর আগে সকাল ১১টার দিকে নগরের আখালিয়া নবাবী মসজিদ পঞ্চায়েত গোরস্থান থেকে তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সজিব আহমেদ ও মেজবাদ উদ্দিন এবং পিবিআই’র তদন্ত কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম সেসময় উপস্থিত ছিলেন।

 

লাশ উত্তোলনের পর পুলিশ পাহারায় অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।

পিবিআই’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান জানান, হেফাজতে মৃত্যু আইনে মামলা হলে নিহতের ময়নাতদন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে করার বিধান থাকলেও রায়হানের বেলায় ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ছাড়াই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে কবর দেওয়া হয়।

এ কারণে মামলা আগের তদন্ত কর্মকর্তা পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করেছিলেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে অনুমতি প্রদান করেন জেলা প্রশাসক। পরে আজ মরদেহ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

By Abraham

Leave a Reply

Translate »