Advertisements

সিনেমা সিরিয়ালের নায়িকাদের মতো সুন্দর হতে ইচ্ছে করে আমাদের অনেকেরই। যদিও আজকের পৃথিবীতে প্রতিদিনই পাল্টে যাচ্ছে ‘সুন্দর’ শব্দের মানে। মেদ ঝরিয়ে রোগা হওয়ার লক্ষ্যে ছুটে চলেছে আজকের মেয়েরা। তার জন্যে নিজেদের প্রিয় খাবার ছেড়ে দিতে এক মুহূর্তও ভাবছে না তারা। শপিং মলগুলোয় নানাধরণের সুন্দর পোশাকের হাতছানি, অথচ ইচ্ছে থাকলেও ওজন বেশি হওয়ায় অনেকেরই নাগালের বাইরে সেসব। ট্রেন্ডি পোশাকের আকর্ষণে রোগা হওয়ার জন্য রীতিমতো সাধনা করছে আজকের তরুণীরা। বাজার চলতি নানারকম ট্যাবলেট খেয়ে কিংবা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই বহুক্ষণ না খেয়ে থেকে রোগা হওয়ার লক্ষ্যে দৌড়চ্ছেন তারা।

অবশ্য ডায়েট করতে গিয়ে মারা গেছেন কেউ, এমন খবর এখনও খুব বেশি শোনা যায় না। কিন্তু সম্প্রতি অভিনেত্রী মিষ্টি মুখার্জীর মৃত্যু কিছু প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল। মিষ্টির মৃত্যুর পিছনে তাঁর অপরিকল্পিত ডায়েট রুটিনের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে বলে অনুমান করছেন ডাক্তারেরা। কোনো প্ল্যানিং ছাড়া ডায়েট কতটা ভয়ানক হতে পারে,এই চিত্র-তারকার পরিণতি তা আমাদের আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ।

মিষ্টির পরিবার সূত্রে জানা গেছে,ওজন ঝরানোর জন্য বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি কিটো ডায়েটে ছিলেন। এমাসের ২রা অক্টোবর আচমকাই কিডনির সমস্যাজনিত কারণে মৃত্যু হয় তাঁর।

এই মৃত্যুর খবরে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ফ্যাশন জগতে। যারা কোন প্ল্যানিং ছাড়াই কিটো ডায়েটের কথা ভাবছিলেন বা বর্তমানে এই বিশেষ ডায়েট ফলো করছিলেন, তারা কিছুটা হলেও ভয় পাচ্ছেন এই মুহূর্তে।

ভাবছেন নিশ্চয়ই, এই ‘কিটো ডায়েট’ আসলে কী?

এই ডায়েট মূলত ডায়াবেটিস আর ওজন কমাতে সাহায্য করে। ইন্টারনেটে যদিও এই ডায়েটকে নানাভাবে প্রমোট করা হয় আজকাল। আমাদের শরীর সাধারণত কার্বোহাইড্রেট থেকে শক্তি সংগ্রহ করে। কিন্তু কিটো ডায়েটের সময় শরীর ফ্যাট জাতীয় খাবার থেকে এনার্জি পেতে চেষ্টা করে। কারণ এই সময় আমরা ফ্যাট ও প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি করে খাই আর কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার বর্জন করার চেষ্টা করি। বহুক্ষণ না খেয়ে থাকলে আমাদের শরীরে কিটোজেনেসিস হয়। এই কিটো ডায়েটের মাধ্যমে আমরা কৃত্রিম উপায়েই কিটোজেনেসিস করে থাকি। এর ফলে শরীর তার সঞ্চিত চর্বি ভেঙে শক্তি উৎপাদন করে আর তার ফলে ওজন কমে যায়।

ডাক্তারদের কথা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ধরণের কিছু রোগীকেই ডায়েট সাজেস্ট করা হয়। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ডায়েট কখনই করা উচিত নয়। সাধারণত এপিলেপসি আছে যাদের তাদেরকে কিছুদিনের জন্য এই ডায়েটে রেখে, তারপর আবার নর্মাল ডায়েটে ফিরিয়ে আনা হয়। এই বিশেষ ডায়েট যেকোনও সাধারণ মানুষের জন্য নয় বলেই চিকিৎসকরা জানান। হাই ফ্যাট, হাই প্রোটিন, লো কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এই ডায়েটের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনির অসুখ, যকৃতের সমস্যা দেখা দিতে পারে।এছাড়াও আরও অনেক ক্ষতিকর দিক রয়েছে এই ডায়েটের।

শরীরে কার্বোহাইড্রেটের অভাব হলে আমাদের হাত পা কাঁপে, দুর্বল লাগে, বুক ধড়পড় করে, কাজে মন বসে না,
শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা হ্রাস পায়। এছাড়াও শরীরে আরও নানা সমস্যা দেখা দেয়। এই কারণেই ডাক্তারবাবুরা কিটো ডায়েট করতে নিষেধ করেন। দ্রুত ওজন কমানোর প্রয়োজন হলে অল্প কিছুদিন এই ডায়েট ফলো করে ছেড়ে দেওয়ার  পরামর্শও দেন তারা।
দিনের শেষে নিজেদের শরীর সুস্থ রাখাটাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ডাক্তারদের মতে, সঠিক খাবার, প্রচুর পরিমাণে ফল, শাকসবজি, জল আর প্রতিদিন এক্সারসাইজের মাধ্যমে ঘাম ঝরাতে পারলেই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারব আমরা।

By Abraham

Translate »