Advertisements

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের উচ্চতর শিক্ষাগত ডিগ্রি সার্ভিসবুকে যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হচ্ছে। তবে কেউ চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে হলে অবশ্যই তাকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সাধারণত চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় যেসব সার্টিফিকেট জমা দেন তা সার্ভিসবুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করলে তাও সার্ভিসবুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

 

কিন্তু অনেক শিক্ষক অধ্যয়নরত থাকার সময়ে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন এবং পরে চাকরিরত অবস্থায় অধ্যয়ন সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া অনেক শিক্ষক নৈশকালীন বা খণ্ডকালীন কোর্স সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেননি। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকে যদি কোনো শিক্ষক শিক্ষাগত যোগ্যতা অভিজ্ঞতা অর্জন করে থাকেন, তবে ওই যোগ্যতা সার্ভিসবুকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

এ অবস্থায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদগুলো যাচাই করে সার্ভিসবুকে অন্তর্ভূক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে সেক্ষেত্রে এখন থেকে শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে।

জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক মারুফ হোসাইন জানান, এটি আমাদের শিক্ষকদের জন্য আশার দিক। আমরা একাডেমিক যোগ্যতার বাইরে বিভিন্ন এক্সট্রা কারিকুলার করে থাকি। এখন থেকে সেগুলো সার্ভিসবুকে সংযুক্ত হলে আমাদের জন্যই ভালে। নিজের পদোন্নতির ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক দিক।

 

জানা গেছে, আগে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের এন্ট্রি পদে নারীদের জন্য উচ্চমাধ্যমিক ও পুরুষদের জন্য স্নাতক ডিগ্রি যোগ্যতা নির্ধারণ করা ছিল। এই পদে ৬০ শতাংশ শিক্ষকই আবার নারী। তাই নারী শিক্ষকের বড় অংশই উচ্চমাধ্যমিক পাস করে এই চাকরিতে আসেন। পরে অনেকে ডিগ্রি ও মাস্টার্স করেন। কিন্তু সেগুলো সার্ভিসবুকে সংযুক্ত করা হতো না বা প্রয়োজন পড়তো না। এখন থেকে এসব উচ্চতর ডিগ্রিগুলো সংযুক্ত করতে হবে।

সহকারী শিক্ষকদের নতুন নিয়োগ বিধি-২০১৯ অনুযায়ী, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক ডিগ্রি। তাই স্নাতক হয়েও অনেক নারী শিক্ষক সরকারি কাগজে-কলমে এখনও উচ্চমাধ্যমিক পাস। এ কারণে সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে উন্নীত করা হলেও এই শিক্ষকরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, আগে উচ্চতর ডিগ্রিগুলো সার্ভিসবুকে সংযুক্ত করা হতো না। এখন চাকরিকালীন অর্জিত উচ্চতর ডিগ্রিগুলো অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো শতভাগ স্নাতক ডিগ্রিধারী শিক্ষক পেলো। মন্ত্রণালয়ের এ আদেশের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো এখন শতভাগ উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষক পাবেন।

By Abraham

Translate »