Advertisements

রাজধানীর কাঁচা বাজারগুলোতে এরই মধ্যে উঠেছে শীতকালীন বিভিন্ন সবজি। শীতের সবজি বাজারে এলেও দাম কমছে মোটেও।

বাজারগুলোতে পর্যাপ্ত নতুন আলু ও গাছসহ দেশি পেঁয়াজ থাকলেও দাম হাঁকা হচ্ছে আকাশ ছোঁয়া।
বর্তমানে প্রতি কেজি নতুন আলুর দাম চাওয়া হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, পুরনো আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা কেজি দরে। আর গাছসহ এক কেজি পেঁয়াজের (শ্যালট, স্ক্যালিয়ন, মুড়ি পেয়াজ, কন্দ পেঁয়াজ, স্প্রিং অনিয়ন) দাম চাওয়া হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে শীতের সবজিতে বাজার ভরা থাকলেও অধিকাংশ সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে দাম কমেছে শিম, বাঁধাকপি ও শসার। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে আটা, ময়দা, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও মসলার দামও।

শীতকালে সবজির দাম না কমায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে শীতের সবজির আগমন ঘটলেও পরিমাণে তা কম হওয়ায় দাম কমছে না। আর ক্রেতারা বলছেন, বাজারে এর আগেও কোনো সবজির ঘাটতি ছিল না। এখন শীতকালে বাড়তি সবজি যোগ হলেও দাম আগের মতোই রাখছেন বিক্রেতারা। এ বিষয়ে সরকারের নজরদারি আরও বাড়ানো দরকার বলে মত তাদের।

শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর ফকিরাপুল, টিঅ্যান্ডটি বাজার, কমলাপুর, বাসাবো, খিলগাঁও, মালিবাগ, সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর বাজার ঘুরে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

এসব বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম আগের মতোই আছে, একটুও কমেনি। আগের মতোই প্রতি কেজি গাজর বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, ঢেঁড়শ ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, বেগুন ৭০ থেকে ১০০ টাকায়, পেঁপে ৪০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়, কচুর ছড়া ৫০ টাকায়, কচুর লতি ৫০ থেকে ৭০ টাকায়, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, টমেটো ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, চিচিংগা ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, ধুন্দল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়, পটল ৭০ থেকে ৮০ টাকায়, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, উচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, প্রতি হালি কাঁচা কলা ৪০ টাকায়, প্রতি পিস লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, চাল (জালি) কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে দাম কমেছে শিম, বাঁধাকপি ও শসার। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কমে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়, কেজিতে ৪০ টাকা কমে প্রতি কেজি ধনিয়া পাতা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়, কেজিতে ২০ টাকা কমে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। ১০ টাকা কমে প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা।

কিছুটা কমেছে শাকের বাজার। বাজারে তিন থেকে পাঁচ টাকা কমে প্রতি মোঠা লাল শাক বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টাকায়, পালং শাক ২০ থেকে ২৫ টাকায়, ডাটা শাক ১৫ থেকে ২০ টাকায়, মূলা ১২ থেকে ১৫ টাকায়। তবে অপরিবর্তিতত রয়েছে লাউ ও কুমড়ার শাকের দাম। বাজারে লাউ ও কুমড়া শাক বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়।

আগের দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে ডিম, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ৯৮ থেকে ১০২ টাকা, প্রতি কেজি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১২০ টাকায়, চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে। এসব বাজারে খুচরায় প্রতি কেজি আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৩ টাকায়, পায়জাম ৫০ থেকে ৫২ টাকায়, মিনিকেট প্রকারভেদে ৫৭ থেকে ৬০ টাকায়, নাজিরশাইল ৫৫ থেকে ৫৮ টাকায়, বিভিন্ন ধরনের পোলাওয়ের চাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে।

বাজারে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি দরে, দেশি (কিং) ৮৫ টাকায়, আমদানি করা মিশরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়, চায়না পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়।

গাছসহ দেশি নতুন পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে, দেশি রসুন ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে, চায়না রসুন ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে, আদা (কেরালা) ১২০ টাকা কেজি দরে, আদা (চায়না) ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

Translate »