Advertisements

করোনা লকডাউনের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত বিরতির পর দেশের ক্রীড়াঙ্গনে মাঠের খেলা ফিরেছে আরও আগে। বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ ক্রিকেটের মধ্য দিয়ে সরব হয়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন। এছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও হয়েছে আরও কিছু খেলা; কিন্তু কোনোটিতেই ছিল না দর্শক সমাগমের অনুমতি। অবশেষে দর্শকরা পেয়েছেন সুখবর।

প্রায় দশ মাস পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। আর এ ম্যাচ উপলক্ষ্যে দেয়া হয়েছে মাঠে দর্শক প্রবেশের অনুমতি। বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার মুজিববর্ষ ফিফা আন্তর্জাতিক ফুটবল সিরিজে মোট ধারণক্ষমতার এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ দর্শক মাঠে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছে বাফুফে।

এ সুযোগটা যেন দুই হাতে লুফে নিয়েছেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। ম্যাচ শুরু বিকেল ৫টায়, অথচ দুপুর ৩টার আগে থেকে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের চত্বরে শুরু হয় দর্শকদের ভিড়, সবার উদ্দেশ্য একটাই- টিকিট সংগ্রহ করা এবং যত আগে পারা যায় মাঠে প্রবেশ করা।

করোনাকালীন বিধিনিষেধের কারণে ২৪ হাজারের বদলে টিকিট ছাড়া হয়েছে ৮ হাজার, এ কারণেই মূলতঃ টিকিট নিয়ে একটা ভয় ছিলো দর্শকদের মনে।

ম্যাচ শুরুর প্রায় ঘণ্টাখানেক আগে থেকে মাঠে প্রবেশ করতে শুরু করেন দর্শকরা। বাফুফের বেধে দেয়া নিয়মের কারণে সবার মুখেই ছিল মাস্ক, গেটে ঢোকার মুখেও মানতে হয়েছে শারীরিক দুরত্ব।

দশ মাস আগে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ম্যাচে এসব মানতে হয়নি দর্শকদের। করোনাকালীন নিউ নরমালের কারণে এসব নিয়ম মানতে হলেও কোনো বিরক্তির ছাপ ছিল না কারও মধ্যে, সবাইকেই দেখা গেছে বেশ উৎফুল্ল।

মাঠের মধ্যে যখন দুই দলের খেলোয়াড়রা অনুশীলন করছিলেন, তখন থেকেই গ্যালারিতে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ম্যাচ শুরু হতে হতে ৮ হাজার দর্শকদের প্রায় সবাই চলে আসেন মাঠে।

বাফুফের পক্ষ থেকে সতর্কতাস্বরুপ গ্যালারিতে দাগ দিয়ে দেয়া হয়েছে সামাজিক দূরত্ব মানার জন্য। তবে দল বেধে আসা দর্শকদের অনেকেই সেটি মানতে পারেননি, সবাই খেলা দেখছেন পাশাপাশি বসেই।

করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এখনও বহাল থাকলেও প্রাণের খেলা মাঠে ফেরায় এ ভয়টা হয়তো একপাশেই রেখে দিয়েছেন দর্শকরা। দল বেঁধে মাঠে এসে প্রমাণ করেছেন দীর্ঘদিন তারা অপেক্ষায় ছিলেন প্রিয় দলের মাঠে ফেরার। শুরু হয়ে গেছে মাঠের খেলা, এখন জামাল ভুঁইয়া, তপু বর্মন, সাদ উদ্দিনরা জয় উপহার দিতে পারলেই প্রশান্তি হাসি নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন এ দর্শকরা।

By Abraham

Translate »