Advertisements

প্রায় এক যুগ ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসা বিএনপির নেতা হাফিজ উদ্দিন আহমেদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার বদলের আশা আর দেখছেন না, এখন তিনি বলছেন ‘গণঅভ্যুত্থানের’ কথা।

সোমবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, “জনগণের ভোটের মাধ্যমে আর পরিবর্তনের সুযোগ নেই, যত দিন এই সরকার আছে ততদিন ভোট কেন্দ্রে সাধারণ নাগরিক যেতে পারবে না। সুতরাং একমাত্র উপায় গণঅভ্যুত্থান।”

দুই লাখ লোক যদি দুই দিন রাস্তায় থাকে, বর্তমান সরকার তখন ‘পালিয়ে যাবে’ মন্তব্য করে হাফিজ বলেন, “সেই সাহস সঞ্চয় করে আসুন আমরা আগামী দিনে এই সরকারকে বিতাড়িত করতে রাজপথে আবার নেমে আসি।”

এ সরকারের সময় যেভাবে নির্বাচন হচ্ছে, তাতে বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ।

তিনি বলেন, “কেন আমরা এই ধরনের নির্বাচনে যাই? যখন নির্বাচনে যাওয়া উচিত না তখন যাই, যখন যাওয়া উচিত তখন যাই না। যেদিন সংসদে যাওয়া উচিত না সেই সংসদে গিয়ে আমরা বসে থাকি। যার জন্য আজকে বিএনপিকে চারশ ভোট দেয়।”

সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী যেখানে এক লাখ ৮৮ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন, সেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী পেয়েছেন ৪৬৮ ভোট।

সেই প্রসঙ্গ টেনে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আরে বিএনপির এজেন্টই তো হাজারের বেশি। আমাদের কোনো এজেন্ট ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন না, কোনো ভোটার কেন্দ্রে যেতে পারে না, এমনকি আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে না- এই হল বাংলাদেশের গণতন্ত্র।”

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কখনও ‘আপস না করলেও’ দলের অনেকে ‘আপস করে বসে আছে’ বলে মন্তব্য করেন দলটির এই ভাইস চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, “আজকে দুঃখের বিষয়, খালেদা জিয়ার মত নেত্রী, তিনি বছরের পর বছর জেলে কাটালেন, আমরা কী করতে পেরেছি?”

বিএনপি আন্দোলন জমাতে না পারলেও রাজপথে ধর্মীয় মৌলবাদীদের কর্মসূচিতে বিপুল জনসমাগমের প্রসঙ্গ টেনে হাফিজ বলেন, এর মধ্যে তিনি ‘অশনি সংকেত’ দেখতে পাচ্ছেন।

“বিএনপি তো এখন ডাক দিলে রাস্তায় নামাতে পারে না। আমাদের এত শক্তিশালী ছাত্রদল ছিল, তাদেরকে রাস্তায় নামাতে পারে না। কেন তাদের নামাতে পারে না আমি জানি না। কারণ আমি এই দলের এত বিরাট নেতাও না।

“কিন্তু অন্যদিকে…। তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে। ইসলামী মৌলবাদীদের মিছিল দেখেন, তাদের সংখ্যা দেখেন রাজপথে…।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “যদি আমরা ব্যর্থ হই, এই সরকার তো যাবে, আওয়ামী জাহলিয়াতের অবসান হবেই। এই ধরনের একটা নষ্ট পচা সরকারকে বাংলাদেশের মানুষ বেশি দিন সহ্য করবে না। কিন্তু তার পরিবর্তন কীভাবে আসবে? কারা এদেরকে সরাবে- এটাই দেখার বিষয়।

“আমরা যেটা দেখতে পাব, এটা বেশি দূরে নয়। তবে এই রাষ্ট্র যদি উদার রাজনৈতিক ধারা থেকে বেরিয়ে গিয়ে আবার মোল্লাদের খপ্পরে পড়ে, এই জন্য শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ দায়ী থাকবে। আমরা এই ধরনের পরিস্থিতি চাই না। আমরা চাই, সরকার পরিবর্তন হোক ভোটের মাধ্যমে।”

By Abraham

Translate »