Advertisements

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় যে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে সেদেশের সামাজিক ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন অনেকে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, প্রতিটি প্রার্থীই সাত কোটির বেশি ভোট পেয়েছেন যা কিনা সেদেশে সামাজিক বিভক্তি সৃষ্টির বড় প্রমাণ। রিপাবলিকান দলের বহু নেতা নির্বাচন কারচুপি হওয়ার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির বিরোধিতা না করার কথা উল্লেখ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন, ‘আমরা আইনের ঊর্ধ্বে নই এবং আমরা আইনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ নই-এটাই ডেমোক্রেট দলের মূল বিশ্বাস।’

নির্বাচন পরবর্তী উত্তেজনার কারণে মার্কিন সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ার ব্যাপারে সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার স্বীকারোক্তি থেকে বোঝা যায় দেশটি বিরাট সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি স্বেচ্ছাচারী নীতি অনুসরণ করে আসছেন এবং এমন সব পদক্ষেপ নিচ্ছেন যা দেশটির শাসন কাঠামোর পরিপন্থী ও সমাজ বিরোধী। তাই এর বিরুদ্ধে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে মার্কিন সমাজে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মূলত একজন ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছাড়াই তিনি নির্বাচনে জিতে হোয়াইট হাউজে প্রবেশ করেছিলেন। অনভিজ্ঞ ট্রাম্প এমন সব বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছেন যা সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার নীতির বিরোধী এবং এর পরিণতিতে আমেরিকার ভেতরে ও বাইরে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছেন তিনি। এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবির ঘটনা আসলে গত চার বছরে তার বহু অপকর্মের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে এবারের নির্বাচনে ট্রাম্প পেয়েছেন সাত কোটি ৩০ লাখের বেশি ভোট এবং জো বাইডেন পেয়েছেন সাত কোটি ৮০ লাখের বেশি ভোট। ভোটের এই হিসাব থেকে শুধু যে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান দলের মধ্যেকার রাজনৈতিক বিভেদ উঠে এসেছে তাই নয় একইসঙ্গে মার্কিন সমাজেও বিভক্তির চিহ্ন ফুটে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, মার্কিন সমাজে বিভক্তির বিষয়টি কেবল বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শাসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং তারও বহু আগে থেকে বিভক্তির আলামত দেখা দিয়েছে। বর্তমানে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এ বিভক্তি চরম আকার ধারণ করেছে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরো জটিল হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে শাসকবর্গের একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনের বিভিন্ন অঙ্গনে ব্যক্তি বা বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের ফলে কেবল বিশেষ মহলের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে সমাজে এবং সমাজ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এ বিরোধ প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে আদর্শিক দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে যা কিনা দেশটির সামাজিক শৃঙ্খলা ও ঐক্যের জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনেকে এটাকে যুক্তরাষ্ট্রের পতনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী মার্কিন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভরাডুবির প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন একটি বিষয় স্পষ্ট আর তা হচ্ছে তারা নিশ্চিতভাবে রাজনৈতিক ও নৈতিক পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

By Abraham

Leave a Reply

Translate »